জামালপুর–৪ আসনের আলোচিত তিন সংসদ সদস্য

Date:

একাত্তর বাংলাঃ-

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে এবার ত্রিমুখী লড়াই হবে। জামালপুর–৪ আসনটিতে মোট সাতজন প্রার্থী। এর মধ্যে তিনজন কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলালের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন আলোচিত সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ। হ্যাভিওয়েট দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেলাল। শক্তিশালী এই তিন প্রার্থীর প্রচারে এই আসনে বেশ নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।

আট ইউনিয়নের একটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সরিষাবাড়ি-৪ আসন। ৭ জানুয়ারি এই আসনের ৮৯টি কেন্দ্রের ৬১৪টি বুথে ভোট দেবেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৭ জন ভোটার। ওই দিন তাঁরা নির্বাচিত করবেন তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে।

সাত প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ পাঁচ দলের পাঁচ জন। তবে ভোটের মাঠ সরগরম করে নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দলীয় প্রার্থীরা নন, বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মধ্যে সংসদ সদস্য মোরাদ হাসান আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন। বিতর্কিত এই নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরও আছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ।

ফলে ভৌগোলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরিষাবাড়ির এই আসনে নৌকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলালের মূল প্রতিদ্বন্দী বলা যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান ও তেজগাঁও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ। জামালপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে শুধু এই আসনেই কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুরাদ হাসান এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে। আর আব্দুর রশিদের প্রতীক ট্রাক।

এ বিষয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মুরাদ হাসান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনে আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কেউ যদি আমরা ভাবি নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না, নিরপেক্ষ হবে না, কিংবা কেউ যদি ভাবি নির্বাচনে আমরা নৌকার প্রার্থী হয়েছি, সরকার দলীয় প্রার্থী—আমরা তো বিশেষ সুবিধা পাব, ভোট নিয়ে যাব, ভোট হয়ে যাবে—এসব হবে না। জনগণ এইসব করতে দেবে না। আমাদের গায়ের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সরিষাবাড়ির মাটিতে এসব হতে দেব না। ইনশাল্লাহ আশা করি বাংলাদেশের কোথাও এই ঘটনা ঘটবে না। এই অপচেষ্টা কেউ করলে তার কবর রচনা হবে।’

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই তিন প্রার্থীকে ভোটের মাঠে দেখা গেলেও বাকী ৪ প্রার্থীকে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। চায়ের কাপে ঝড় তুলছে নির্বাচনী আলাপ আর ভোটাররা কষছেন শত হিসাব।

সাধারণ ভোটারদের কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রতীককে; অর্থাৎ, দলীয় মনোনয়নকে। আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দেখেশুনে এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, যারা আগামী পাঁচ বছর সুখে–দুঃখে তাঁদের পাশে থাকবেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের এই ডামাডোলে অনেক ভোটারই নির্বাচনী উত্তাপটা বেশ উপভোগ করছেন। একটা বড় অংশই কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা দলীয় মনোনয়নের বিপরীতে দলেরই প্রার্থীর স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকার কথা বলছেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভোটাররা আশাবাদী যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

ভোটারেরা বলছেন, ভোটের সমীকরণে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীই হানা দেবেন নৌকার ভোট ব্যাংকে। জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী তাঁরা। জোর দিচ্ছেন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ওপর।

আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হয়েছি। আমি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা মূলক হওয়া উচিত। আমি মনে করি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জয় লাভের আনন্দ আছে।’

জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ সব দিক দিয়েই সমানে সমান এই তিন প্রার্থী। তবে শক্তিশালী দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও নৌকা প্রতীকের ওপর আস্থা রাখছে সরকার দলীয় প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলাল। বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই সরিষাবাড়ির মানুষ, এই যমুনা বিধৌত মানুষ দুর্যোগে, দুর্বিপাকে নৌকায় চড়তেও জানে, আবার নৌকার বৈঠা নিয়ে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতেও জানে। এই অঞ্চলের মানুষ নৌকায় ভোট দিতে অভ্যস্ত। কাজেই দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও এই সরিষাবাড়িতে নৌকার ভোটের ঘাটতি হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার এলাকার সবাই বিশ্বাস করে।’

আসনটিতে ভোটের লড়াইয়ে নামা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) তারিখ মাহাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়া সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে তৃণমূল বিএনপির মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মশাল প্রতীক নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান...

চৌকস ওসি নাজমুস সাকিব এর নেতৃত্বে শাওন হত্যার আসামীরা গ্রেফতার

সুমন ভৌমিকঃ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুমানিক বিকাল ৫ ঘটিকায়...

ময়মনসিংহে হতদরিদ্রদের মাঝে নবনির্বাচিত এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দের ইফতার বিতরণ

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে হতদরিদ্র ও...

বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল-যাদের পরিকল্পনা রয়েছেঃ তারেক রহমান

একাত্তর বাংলা রির্পোটঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা...
LATEST NEWS
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-তথ্য প্রতিমন্ত্রী চৌকস ওসি নাজমুস সাকিব এর নেতৃত্বে শাওন হত্যার আসামীরা গ্রেফতার ময়মনসিংহে হতদরিদ্রদের মাঝে নবনির্বাচিত এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দের ইফতার বিতরণ বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল-যাদের পরিকল্পনা রয়েছেঃ তারেক রহমান দেবাদিদেব মহাদেব এর “কৃষ্ণ দর্শন” অবতার আধ্যাত্মিক যাত্রার পথপ্রদর্শক দায়িত্বশীলতা কার্যক্রমের সাফল্য স্বরুপ ওসি শিবিরুল একাধিক পুরস্কার পেলেন মোস্তফা রুবেল ত্রিশাল থানায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে দায়িত্ব পেয়েই বিশেষ পুরস্কার পেলেন দুর্ধর্ষ সেলফোন চুরির ঘটনার গুপ্তকথা উন্মোচনে গ্রেফতার ৩ “নেই নিদ্রা-নেই ক্লান্তি” সদরবাসীকে দিচ্ছেন শান্তি! ময়মনসিংহ নগরীর ১নং পুলিশ ফাঁড়ির টিমের অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ৩