একাত্তর বাংলাঃ-
দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের টার্গেট করে একে একে করেছেন অন্তত ৬টি বিয়ে। হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করেও হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অঙ্কের অর্থ।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।
আজাদ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার বড় দুধপাতিলা গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
শনিবার দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার (এসপি) জি.এম. আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুল দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে একে একে ৬টি বিয়ে করেছে। এদের কাছ থেকে এক কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয়।’
এসপি বলেন, ‘পাংশা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফজর আলী র্যাব-৫ এর সহযোগিতায় পাংশা মডেল থানার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ওরফে বুলবুলকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নাটোর জেলা সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’
এসপি আরও বলেন, ‘আজাদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সরকারী অডিট অফিসার হিসেবে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, পাবনা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন থানা অঞ্চলে দায়িত্বে আছে বলে পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিয়ে করে। এভাবেই রাজবাড়ীর পাংশায় এক মেয়েকে (১৭) বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ মার্চ প্রতারণামূলকভাবে বিবাহ করে। তাকে ধর্ষণ করে। গত ২৭ আগস্ট তাকে ফরিদপুর শহরস্থ রথখোলা যৌনপল্লীতে নিয়ে পাচারের চেষ্টা করে। এর আগে তার বসতঘর থেকে বিভিন্ন স্বর্ণ অলংকার ৫ লাখ ৭০ টাকা এবং নগদ ৮ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া গত ৭ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাংশা মডেল থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারী কর্মকর্তার পরিচয়ে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাত জনের কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।’
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আজাদ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তার প্রতারণা কাজের সুবিধার্থে তাদের বিবাহ করে। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। সে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬টির বেশি বিয়ে করেছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ৪টি প্রতারণার মামলা এবং ১টি চোরাচালানের মামলা রয়েছে। দামুড়হুদা থানায় ২টি ওয়ারেন্ট রয়েছে।’

