সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের প্রশস্তচিত্ত পদক্ষেপে তিন কিশোরী দেহোপজীবিনী গণিকালয় থেকে নিজ পরিবারে ফিরে গেলেন। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবারগুলো।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরী’র কিশোরী ঝর্ণা (ছদ্দনাম) আর্থিক টানাপোড়েন সংসারে অচল অবস্থার কারনে প্রায় ২ বছর আগে রংপুর মহানগরী’র নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে চাকরী করতে আসে। এসময় জনৈক সাগর নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। সাগর কিশোরী ঝর্ণাকে ভালো বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়ে সুকৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি পান করিয়ে কিশোরীকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর কিশোরী ঝর্ণাকে ময়মনসিংহ মহানগরী’র গণিকালয়ে নিয়ে এসে টাকার বিনিময়ে সর্দারনীর কাছে বিক্রি করে দেয়।
তথ্য সূত্র জানায়, আরেক কিশোরী জবা (ছদ্দনাম) সৎ মায়ের পরিবারের লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১ বছর ৪ মাস আগে নিজ বাড়ী থেকে ঢাকা এলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কিশোরী জবাকে বিউটি পার্লারে চাকুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ময়মনসিংহ মহানগরে নিয়ে আসে। এরপর টাকার বিনিময়ে কিশোরী জবাকে মহানগরী’র গণিকালয়ে সর্দারনীর কাছে বিক্রি করে দেয়।
তথ্য সূত্র আরো জানায়, কিশোরী তিথি (ছদ্দনাম) সৎ মায়ের সাথে রাগ ও অভিমানের বশবর্তী হয়ে প্রায় ১০ মাস আগে একই পরিণতি বরণ করে ময়মনসিংহ মহানগরী’র গণিকালয়ে সর্দারনীর কাছে বিক্রি হয়।
তিন কিশোরী ময়মনসিংহ মহানগরী’র গণিকালয় থেকে উদ্ধার বিষয়ে তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি কিশোরীদের মধ্যে একজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সুকৌশলে তার মায়ের মোবাইলে যোগাযোগ করে। মোবাইলে যোগাযোগের পর তার মা-বাবা সেদিনই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় কিশোরীর মা-বাবা তার সন্তানকে গণিকালয় থেকে নিজ পরিবারে ফিরিয়ে নিতে পুলিশ সুপারের সহৃদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সুযোগ্য পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য।
জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার চৌকস টিম ময়মনসিংহ মহানগরী’র রমেশ চন্দ্র সেন রোডে অবস্থিত গণিকালয়ে কিশোরী উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় নির্দিষ্ট কিশোরী উদ্ধারসহ আরো দু’জন হতভাগ্য কিশোরী গণিকালয় থেকে উদ্ধার হয়।
এসময় উদ্ধারকৃত তিন জন কিশোরী ঝর্ণা (ছদ্দনাম), কিশোরী জবা (ছদ্দনাম), কিশোরী তিথি (ছদ্দনাম) ডিবি পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসেন।
উদ্ধার হাওয়া তিন কিশোরী দেহোপজীবিনীরা অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে আবারও সুস্থ সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে। এছাড়া কিশোরী দেহোপজীবিনীরা অন্ধকার জগতে আসার বিষয়ে এবং তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সকল বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানায় পুলিশ সুপারকে।
পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম কিশোরী দেহোপজীবিনীদেরকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে ডিবি পুলিশ তিন কিশোরী দেহোপজীবিনীদেরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরের পর পিতা-মাতা সন্তানদের ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে প্রশান্তির আবেগে ভেসে যায়।
এদিকে, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের আন্তরিকতায় তিন কিশোরী গণিকালয় থেকে উদ্ধার হওয়ায় ময়মনসিংহবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পুলিশ সুপারের ইতিবাচক ভাবধারা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে ময়মনসিংহবাসী ব্যক্ত করেন।

