একাত্তর বাংলা নিউজঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভ্যন্তরিন কোন্দলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি. এম. ইকবাল হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে গৌরীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে তিনি এই দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন আরও বলেন, ঘটনার পর আমি শুনতে পেরেছি বিএনপি নেতা এম. ইকবাল হোসেন তার নিজ ইউনিয়ন সিধলার টেঙ্গুটিপাড়া গ্রামে একটি আকিকার দাওয়াতে যাওয়ার পথে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এদিন সকালে বালিয়াপাড়া গ্রামে একটি মঞ্চ নাটকের অতিথি হওয়া ও স্থানীয় একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধসহ আরও কিছু অভ্যন্তরিন ঘটনার জের ধরে ইকবাল হোসেনের লোকজন তাঁর চাচা ও একই গ্রামের নূরুজ্জামানকে মারধর করে। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই এদিন বিকালে ইকবাল হোসেনের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। বিষয়টি ইকবাল সাহেবের একান্ত ব্যক্তিগত। কিন্তু মূল ঘটনা আড়াল করে হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত না করে প্রতিহিংসামুলকভাবে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি, এর মূল্যায়ন হিসাবে জনগণের রায়ে ২০০৩ সালে মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ এবং ২০১৪ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। বিগত ১৬ বছরে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে শতাধিক মামলার আসামি হয়েছি। আশা করি দল আমার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ মন্ডল, শাজাহান কবীর সাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর্জা মাজহারুল আনোয়ার
প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি বিকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আকীকার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি. এম. ইকবাল হোসেনের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় দুই অনুসারীর আধিপত্যের দ্বন্দ্বে এই ঘটনার সংর্ঘষে উভয় পক্ষের প্রায় ৯ জন আহত ও রক্তাক্ত হয়।

