সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের তত্বাবধানে কোতোয়ালী পুলিশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে ব্লাড চোর চক্রের সক্রীয় সদস্য ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
১৯ জানুয়ারি (রবিবার) ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানায়, এসআই রিপন চন্দ্র সরকারের টিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে ব্লাড চোর চক্রের সক্রীয় সদস্য মোঃ নাঈম খান পাঠান ও মোঃ আব্দুল্লাহ ওরফে তুষার চন্দ্র দে কে ব্লাড চুরি করার সময় হাতে-নাতে ধরে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি আরো জানায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্লাড চুরি চক্রের বিষয়ে ২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করায় তাদেরকে ব্লাড চুরি করার সময় হাতে-নাতে ধরে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই চোর চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ব্লাড চুরি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত ব্লাড চোর ২ জন ছাড়াও এর সাথে আরও অনেক ব্লাড চোর চক্র সদস্য রয়েছে।
ওসি মো. শফিকুল ইসলাম এসময় জানান, হাসপাতালে ব্লাড ব্যাগে সিরিয়াল নাম্বার থাকে। সিরিয়াল নাম্বারগুলো সঠিক কিনা সেটার বিষয়েও তদন্ত হচ্ছে। তবে নাম্বার স্লিপগুলাতে দেখা যাচ্ছে-শুধু চরপাড়া লিখা থাকলেও কোন দোকানের নাম বা ঠিকানা নাই, মোবাইল নাম্বারও নাই। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এই স্লিপগুলা ভুয়া।
ময়মনসিংহ জেলায় ৪টা ব্লাড ব্যাংক এর অনুমোদিত লাইসেন্স রয়েছে। ব্লাড চুরির বিষয়ে ব্লাড ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। তবে একটি বিষয়ে ব্লাড ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষ থেকে ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানতে পারেন-একটি প্রতারক চক্র এক ব্যাগ ব্লাড এর সাথে স্যালাইন মিশিয়ে দুই ব্যাগ ব্লাড বানিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিক্রি করে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এই পেশার সাথে অনেকেই জড়িত। ওসি জানায়, এই পেশার সাথে জড়িত সকল প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ব্লাড চুরি সাথে জড়িত চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ (অপারেশন) এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

