মো. রুকন উদ্দিন
জিল্লু অনেকদিন যাবৎ মোবাইলে গেইম খেলছে, কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত যেতে না পারার আক্ষেপে মোবাইল তুলে রাখল মাচায়। বার বার সে উপর দিকে থাকায় কিসের যেন কান্নার শব্দ শুনতে পায়। শেষ পর্যন্ত সে অবাক হলো মোবাইলও কান্না করতে পারে! আশ্চর্য তখন তার এবং মোবাইলের মধ্যে কথোপকথন চলে….
মোবাইল : জিল্লু তুমি আমাকে তুলে রেখো না, আমি তোমাকে আর সময় ধ্বংস করে কষ্ট দিব না!
জিল্লু: বল, তুই আমাকে পাবজির শেষ পর্যন্ত যেতে সাহায্য করবি কিনা?
মোবাইল : এটা কোন কথা হইল, সিম্পল বিষয় নিয়ে তুমি আমাকে তুলে রাখলে!
জিল্লু: না, এটা সিম্পল কথা না, আমার বন্ধুরা সবাই পাবজি শেষ করে ফেলছে আর আমি!
মোবাইল : ঠিক আছে তুমি এবার সাকসেস হবে আমাকে তোমার বন্ধু বানাও।
জিল্লু: তাহলে প্রমিজ! মোবাইল : প্রমিজ
এভাবে জিল্লু আবার মোবাইল হাতে নিল এবং গেইম শুরু করে দিল। শেষ পর্যন্ত সে সাকসেস হলো কিন্তু মজার ব্যপার তার বয়স হয়ে গেল আটাশ! সেই পনেরতে শুরু শেষ হইল আটাশে। সে ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালো একুশ তারিখ দুই মাস দুই হাজার একচল্লিশ। এখন সে কি করবে তার পড়ার বয়স চলে গেছে! সে মনে মনে জপতে লাগলো “সময় গেলে সাধন হবে না”
আজ মোবাইল তাকে ব্যর্থ করে দিলো, তার আয়ু ফুরিয়ে দিল। সময় ধ্বংস হয়ে গেছে মোবাইলে গেইম খেলে। গেমে সাকসেস হলেও জীবনের সাকসেস নেই। সফলতার গল্প এখানেই শেষ। তার বুয়েটে পড়ার স্বপ্নে আঘাত দিল মোবাইলে পাবজি খেলার শেষ প্রান্তে পৌঁছার গল্প দিয়ে। এদিকে গ্রামে হই চই পড়ে গেল বকুল মিয়ার ছেলে বুয়েটে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার খবর পাওয়ায়। পারদিন খবর ছাপানো হলো বকুল মিয়ার স্বপ্ন পূরণের দিন বলে। জিল্লু শেষ পর্যন্ত বুয়েটে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে না পেরে খুব কষ্ট পেল। শেষমেশ সে আর কী করবে? পেট বাঁচানোর জন্য তো কিছু করতে হবে। অনেক ঘুরেফিরে একটি নষ্ট মোবাইল ঠিক করার গ্যারেজ কর্মী হিসেবে কাজে যোগদান করলো। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে বকুলের কথা চিন্তা করতে লাগলো। ভাবলো, আজ যদি সে মোবাইলে গেম না খেলে ঠিকমতো পড়ালেখায় মন দিতো, তাহলে বকুলের মতো সেও বড় ইঞ্জিনিয়ার হতো। দশগ্রামে ছড়িয়ে পড়তো তার নাম।

