ধর্ষণ নিয়ে নসিহতের রকমফের

Date:

একাত্তর বাংলাঃ অনেকেই ধর্ষিতাদের অহরহ নানা দোষত্রুটি খুঁজে পান। আসলে আপনারা যারা কেবলই ধর্ষিতাদের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান, নানা নসিহত করেন – তারা নিশ্চিত ভুল পথে হাঁটছেন! কিছু প্রশ্ন এবং উত্তরে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে লেখার গতিপথ সেভাবে আগানোর চেষ্টা করছি।

যদি কোনো ধর্ষক বলে – “ঐ নারীর পোশাক এবং চলাফেরা খোলামেলা-উগ্র ছিলো, তাই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে ” ধর্ষকের এই উত্তর আপনি মেনে নিবেন? তাকে অপরাধ থেকে বেকসুর খালাস দেবার জন্য ওকালতি করবেন?  যদি মেনে না নেন তবে তার পোশাক বা চলাফেরা সত্যিকার অর্থে ধর্ষণের জন্য কতোটুকু দায়ি হলো?

আসলে দায়ি ধর্ষকের লালসা, কামনা-বাসনা, নৈতিকতার অধ:পতন। আর যদি ধর্ষকের ঐ উত্তর আপনি মেনে নেন তবে আপনারও ধর্ষণকামী মন – আপনি সাধু হন আর চোর যা-ই হন।

এখন আরেকটি প্রশ্ন – বোরকা পড়া মেয়ে  কি ধর্ষিত হয়নি?  হয়েছে। তাই এক্ষেত্রেও বলা যায় ধর্ষক পোশাক দেখেনা, বোঝেনা- দেখে নারীর দেহ, বোঝে ধর্ষণ।

রাতে-দিনে উভয় সময়ে নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি?  হয়েছে । চলাফেরার সময় কতটুকু দায়ি হলো তাহলে? নির্জন রাতে-দিনে নারী ধর্ষিত হয়। একা নারী ধর্ষিত হয়, সঙ্গীসহ নারী ধর্ষিত হয়!

যে কোনো বয়সের নারী ধর্ষিত হয় কি না? হচ্ছে! শিশু, কিশোরী, যুবতী, বৃদ্ধা – ধর্ষক সুযোগ পেলে কাউকে রেহাই দেয় না।

যে কোনো জায়গায় নারী ধর্ষণের শিকার হতে পারে?  হ্যাঁ, ঘরে বাইরে পথে-ঘাটে সব জায়গাই আমরা ধর্ষণের শিকার হতে নারীকে দেখেছি। স্কুলের বারান্দায়ও দেখেছি, অন্য ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ছাত্রী ধর্ষণের খবর আমরা পত্রিকায় দেখেছি।

শীতকালে পোশাকের স্তুপে ঢাকা নারীও ধর্ষিত হয় ! গরমকালের হালকা পোশাকের নারীও ধর্ষিত হয় ।

এখন আসি নসিহতের রকমফেরে! আমি চাই ধর্ষণ বন্ধ হোক, আপনিও তাই চান । কিন্তু নসিহত করতে গিয়ে আমরা বিতর্কে জড়িয়ে যাই। কেন? চাওয়াতো একই! তবে কেন বক্তব্যে অসহিষ্ণুতা? কারণ, একজন মনে করি ইনি যেভাবে বলছেন তা ঠিক নয় – বোধহয় নারীদের একটু সুবিধা দেয়া হলো! আরেকজন ভাবেন – এই বুঝি নারীদের শতভাগ অধিকার কেড়ে নেয়া হলো!

সাধারণত ধর্ষণের বক্তব্য বা ওয়াজ দুটোতেই প্রাধান্য পায় পোশাক! সত্য কথা হলো – পোশাক বিতর্ক নয়, ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক হোক বা হওয়া উচিত। শালীনতা সব সময়ই উত্তম – কথা, যুক্তি, পোশাক সবক্ষেত্রেই শালীনতা আছে। চিন্তার শুদ্ধতা আছে। নির্মোহ ভাবে ভাবনার ব্যাপারটিও আছে।

সুতরাং, মূল বিষয় হলো মানসিকতার পরিবর্তন। সব ধরনের নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি। তাই আসুন- ধর্ষণমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা ধর্ষকদের নসিহত করি!

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক, বিশিষ্টি কলামিস্ট সাকিব জামাল ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান...

চৌকস ওসি নাজমুস সাকিব এর নেতৃত্বে শাওন হত্যার আসামীরা গ্রেফতার

সুমন ভৌমিকঃ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুমানিক বিকাল ৫ ঘটিকায়...

ময়মনসিংহে হতদরিদ্রদের মাঝে নবনির্বাচিত এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দের ইফতার বিতরণ

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে হতদরিদ্র ও...

বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল-যাদের পরিকল্পনা রয়েছেঃ তারেক রহমান

একাত্তর বাংলা রির্পোটঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা...
LATEST NEWS
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-তথ্য প্রতিমন্ত্রী চৌকস ওসি নাজমুস সাকিব এর নেতৃত্বে শাওন হত্যার আসামীরা গ্রেফতার ময়মনসিংহে হতদরিদ্রদের মাঝে নবনির্বাচিত এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দের ইফতার বিতরণ বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল-যাদের পরিকল্পনা রয়েছেঃ তারেক রহমান দেবাদিদেব মহাদেব এর “কৃষ্ণ দর্শন” অবতার আধ্যাত্মিক যাত্রার পথপ্রদর্শক দায়িত্বশীলতা কার্যক্রমের সাফল্য স্বরুপ ওসি শিবিরুল একাধিক পুরস্কার পেলেন মোস্তফা রুবেল ত্রিশাল থানায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে দায়িত্ব পেয়েই বিশেষ পুরস্কার পেলেন দুর্ধর্ষ সেলফোন চুরির ঘটনার গুপ্তকথা উন্মোচনে গ্রেফতার ৩ “নেই নিদ্রা-নেই ক্লান্তি” সদরবাসীকে দিচ্ছেন শান্তি! ময়মনসিংহ নগরীর ১নং পুলিশ ফাঁড়ির টিমের অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ৩