ভোরের কন্ঠঃ চকবাজার ট্রাজেডি। বাতাসে পোড়া লাশের তীব্র গন্ধ। আকাশ বাতাসে ছড়িয়েছে গগনবিদারী আর্তনাদের হাহাজারি।
সারাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এটি এখন আর্তনাদের করুন চিত্র। টক অব দি টাউন।শতাব্দির ইতিহাসে বাংলার বুকের গর্ভস্থল রাজধানী’র ব্যস্ততম এলাকা। ঢাকা চকবাজার। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। লাশের মিছিলে ভারী হচ্ছে মানবিকতা।
যেভাবে শুরু ঘটনার আদিপান্ত, প্রথমে এক পিকআপের সাথে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ ঘটে। প্রাইভেট কারের সিএনজি বিস্ফোরণ।পাশেই ছিল হোটেল, হোটেলে রান্না হচ্ছিল গ্যাসে, সেই গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ। সাথে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিতে ট্রান্সফর্মারে বিস্ফোরণ।
এ যেনো বিস্ফোরনের উপরে বিস্ফোরন। ঘটনা যেনো কোন কল্পকাহিনীকেও হার মানায়। বিধির কি লীলা !
আগুন ছড়িয়ে গেল ভবন জুড়ে। সেখানে ছিল নেল পালিশ কেমিকেলের গোডাউন।ছিল পারফিউমের কেমিক্যাল। এমনকি লাইটার রিফিলের গ্যাসের ছোট ছোট জার।
জানা যায়, ঘটনার দুদিন আগেও সাত ট্রাক কেমিক্যাল ঢুকেছে এই চকবাজারে। হয়তো এমনই ছিলো পরিনতি। যার দরুন, ওয়াহিদ ম্যানসনের ওয়াহিদ সাহেব মারা গেছেন আগেই, তার দু ছেলে এ ভবনে থাকতেন, ভাগ্যের কি পরিহাস, তারা যে কেমিক্যাল গোডাউন ভাড়া দিলেন, তার বিস্ফোরনেই প্রাণ গেছে নিজেদের পরিবারের লোকদের।
হতাহতদের মিছিল কেনো বেড়েছে। কারন পরদিন ছুটি থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা একটু গুছিয়ে নিচ্ছিলেন, সেই গোছানোই চিরতরের গোছানো। কেউ আঁচ করতে পারেনি ঘটনার তীব্রতা। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮০ পেরুলো, বাড়ার আশংকা বেশি, আহত অর্ধশত কিংবা এর অধিক।
মিডিয়া তৎপর। সারাদেশ হতভম্ব। ঘুমোতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী। বললেন মেয়র খোকন। সারাদেশে পোড়ানো ছবি ছড়িয়ে পড়ছে নতুনত্বতায়। বিভিষীকাময় ছবিতে সকল স্তরের মানুষ কাঁদলো।
ক্ষতিগ্রস্ত এক অভাগা বললেন, কিছু রেখে যায়নি, সব শেষ। যে সমস্ত মানুষ মারা গিয়েছে মহান আল্লাহ যেন সবাইকে জান্নাত নসিব করুন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার আবেগতা।সবার মুখে শুধু ‘হে আল্লাহ্ আপনি নিহতদের পরিবারের সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।আমিন।
ঘটনাস্থলের বিবরন চলে আসে গনমাধ্যেম ও প্রিন্ট মিডিয়া। ছড়িয়ে পড়ে দূর্লভ কিছু হৃদয় পোড়ানো স্মৃতি। ঘুরে ফিরে স্মরণের উপাত্ত।
জানা যায়, এক গর্ভবতী স্ত্রী নামতে পারেননি বাড়ী থেকে, তাই স্বামীও নামেননি, ভালবাসার নিধারুন সাক্ষী। ইতিহাসের বাস্তব প্রেম কাহিনী। সত্যিকারের ভালোবাসার প্রতিদান আগামিতে বাংলাদেশে উদাহরন হয়ে থাকবে।
নিত্যদিনের মত চার বন্ধু আড্ডা চলছিলো । আড্ডাস্থলেই অগ্নিকান্ড।আড্ডাস্থলে চারটি মাথার পোড়া খুলি ! মৃত্যু বড়ই ভয়ানক!
আদরের সন্তানের বায়না বাবার কাছে। সন্তান বিরিয়ানি খেতে চেয়েছে! বাবা বিরিয়ানি নিয়ে ফিরে এসে পায়নি সন্তানকে! এখন বিরিয়ানি কে খাবে? এ খাবার কোথায় রাখবে সন্তানের বাবা।
হাসপাতালে জমজ সন্তান।খুজছে প্রিয় বাবা। বয়স ১ বছরের মতো। মর্গের সামনে তাদের বাবা খুঁজছে। বাবা বলে ডাক দিলেও তো আর আসবে না, ফিরবে না, চলে গেছে না ফেরার দেশে।অথচ বুঝার বয়সটাও হয়নি।আর ফিরে আসবে না!. দুই ভাইয়ের জড়াজড়ি করা লাশ আলাদা করা যাচ্ছেনা। আলাদা করার পর তাদের বুকে জড়িয়ে ধরা শিশুর লাশ। শিশুকে বাচাঁনোর শেষ চেষ্টা করছিলেন দুই ভাই। কি নির্মমতা। নিজেদের মৃত্যুকে সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখেও অন্যর প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
অবুঝ মা। ছেলে নর্থসাউথ এ পড়ে। সন্তানের লাশ চাচ্ছে তার মা। একটু মাংসের দলা হলেও চলবে। তিনি শেষবার বুকে জড়িয়ে ধরবেন।
চকবাজারে উপস্থিত ভাই। মৃত ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করে বাবাকে ফোন দিয়ে বলে ‘আব্বা এনামুল পুইড়্যা মইরা গেছে, লাশ খুইজ্যা পাইছি গো আব্বা’ । সব হারিয়ে এটাই যেন শান্তি পরিবারের কাছে প্রিয় জনের লাশ তো পেয়েছি…
কতোটা দুর্বিষহ । কতোটা তুচ্ছ জীবন !!
আদরে জিইয়ে রাখা শরীরটা এভাবে বলি হয়ে যায়!! ভাবা যায়না!! একদম ভাবা যায়না!! গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে বারবার!
সমাদান নয় দ্রুত পরিকল্পনা মাফিক নগরায়ন এখন অনিবার্য সথ্যেতে পরিণত হচ্ছে।

