একাত্তর বাংলাঃ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদে মানা হচ্ছে না নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় নিয়ম। বেশিরভাগ গোডাউনেই বাতাস চলাচল ও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ সংরক্ষণের কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তর জানায়, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি করতে পারছে না সংস্থাটি।
স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অনিরাপদ মজুদদারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানোর আশ্বাস তাদের।
এলপিজি সিলিন্ডারগুলো সংরক্ষণের জায়গায় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বৈদ্যুতিক সুইচ ও অন্যান্য উপকরণও থাকবে গোডাউনের বাইরের অংশে। স্থানটিও হতে হবে আগুনের ব্যবহার আছে এমন জায়গা থেকে দূরে। এমন শর্তে অনুমোদনের ছড়াছড়ি থাকলেও তদারকি না থাকায় শর্ত পালনের শিথিলতার সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা।
নিজস্ব নিরাপত্তা নেই বললেই চলে অনেক প্রতিষ্ঠানে, যা আশপাশের জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম মেনে সংরক্ষণ না করায় যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রি. জে. (অব) আলী আহম্মেদ খান বলেন, একটা কিংবা দুইটা লেয়ার পর্যন্ত রাখা যায়। চার-পাঁচটা লেয়ার রাখা যায় না। এতে রেগুলেটরের উপর চাপ পড়ে। এরকম করলে সিলিন্ডার লিক হয়ে যেতে পারে এবং দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একটা দুর্ঘটনা ঘটলে তখন বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।
মূলত ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই ডিলার পর্যায়ে সিলিন্ডার মজুদ করা হয়। সারাদেশে ১৭টি কোম্পানির ২ কোটিরও বেশি সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে।
এ ব্যবসায়ের জন্য ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে আরও অনেক মজুদকারী প্রতিষ্ঠান।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক এম. সামসুল আলম বলেন, এ সংক্রান্ত আইনের অধীনে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স চেক করতে পারেন এবং মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ব্যবসায় যারা অনিয়ম করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করলে সনদ নেয়ার বিধান রয়েছে। গ্রাহকের কাছে সহজে পৌঁছাতে এক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়। ডিলার পর্যায়ে মজুদকালীন নিরাপত্তা আরও জোরদারের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করে বিস্ফোরক পরিদপ্তর।

