সুমন ভৌমিকঃ গতকাল ২৯ মে আধিপত্যকে বিস্তার করে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ তথাকথিত অবৈধ দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারী ফরিদ আহম্মেদ স্বপন এর লোকদের সাথে দলিল লেখক বিল্লু সরকারের লোকদের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের সাথে টিকতে না পেরে সাধারন দলিল লিখকরা পিছু হটে যায়। সাধারন দলিল লিখকরা পিছু না হটলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সৃষ্টি হতো।
সূত্র থেকে জানা যায়, দলিল লেখক শ্রী বানু সরকারের মৃত্যুর পর তৎকালিন সদর সাব-রেজিস্ট্রিার দলিল লেখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহযোগীতায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ আব্দুল্লাাহ্ আল মামুন আরিফ বাহিনীকে ডেকে এনে চাঁদাবাজী চালিয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন যাবত দন্ডিত হচ্ছে ভূমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও নকল আবেদনকারীরা। ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন সহ অপমানের গ্লানী সহ্য করতে হয়েছে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।
সাব-রেজিষ্ট্রিার ও দলিল লিখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় সন্ত্রাসীরা দেদারসে চালাচ্ছে ভূমি ক্রেতা ও নকল আবেদনকারীদের কাছে চাঁদাবাজি। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কামাই করছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও অসাধু সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী।
বেআইনী চাঁদা আদায়ের ঘটনায় দলিল লেখকরা ইতিপূর্বে একাধিক বার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব রেজিস্ট্রার এর কাছে মৌখিক অভিযোগ ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।
তথ্য সূত্র মতে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের চাঁদাবাজীকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সদস্য রেজাউল করিম রাসেল হত্যা হয়। এতে প্রধান আসামী হয় ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাাহ্ আল মামুন আরিফ। আরিফের অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ফরিদ আহম্মেদ স্বপন সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজীর দায়িত্ব নেয় এবং দেদারসে চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার এর নির্দেশে দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায় এবং অভিযান চালিয়ে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কোন অবস্থাতেই নাগরিক হয়রানি ও অর্থ ভর্তুকি চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। দুর্নীতি পরায়ন জেলা রেজিস্ট্রার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সেই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আতাত করে অফিস পরিচালনা কাজ ও দলিল প্রতি তাদের নির্ধারিত উৎকোচ বানিজ্য অব্যাহত রাখেন। ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কি ঘটছে সকলেরই জানা। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করবে ময়মনসিংহের জনগণের দাবি।

