সুমন ভৌমিকঃ ঈশ্বরগঞ্জ গালাহার গ্রামের ভেকুয়া বিলের পাশ থেকে সুন্দাইল পাড়া’র বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন (৩০) এর লাশ গত ৩০ মার্চ রাত ৯ ঘটিকায় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ৩০ মার্চ ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ধারা-৩০২ পেনাল কোড-এ মামলা রুজু হয়। ময়মনসিংহ গোয়েন্দা সংস্থা’র দক্ষ টিম রাবেয়া খাতুনের হত্যা মামলা রহস্য ২৪ ঘন্টায় উদঘাটন করে খুনিকে গ্রেফতার করে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) রাবেয়া খাতুন হত্যার রহস্য অধিকতর তদন্ত করে দ্রুত উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) নির্দেশ প্রদান করেন।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার) পুলিশ সুপার এর নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা মোতাবেক ডিবি’র টিমকে মাঠে নামিয়ে দেয়। পরে ডিবি’র ওসির তত্বাবধানে ডিবি’র দক্ষ টিম অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
রাবেয়া খাতুনের খুনের রহস্য উদঘাটনের পর পহেলা এপ্রিল দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে ডিবি’র এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান সংগীয় অফিসার ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে নান্দাইলের উত্তর পালাহার বাসিন্দা খুনি মোঃ কামাল ফকির (৩৭)-কে ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন কাঁঠাল ডাংরী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জের মগটুলা ইউনিয়নের গালাহার গ্রামের রাস্তার পাশের ধানক্ষেত থেকে রাবেয়া খাতুন নামে ওড়না প্যাঁচানো এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত রাবেয়া খাতুন গৌরীপুর উপজেলার ভূঁইয়ার বাজার এলাকার হাদিস মিয়ার মেয়ে।
সকালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের গলায় ওড়না ও কলাগাছের ডগা প্যাঁচানো ছিল এবং তার গলায় হালকা দাগও ছিল।
ময়মনসিংহ গোয়েন্দা সংস্থা কতৃক গ্রেফতারকৃত আসামী খুনি মোঃ কামাল ফকিরকে পহেলা এপ্রিল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাহাবুবা আক্তার এর ৪নং আমলী আদালতে প্রেরণ করা হলে, খুনি কামাল হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
ডিবি ওসি মোঃ শাহ কামাল আকন্দ জানায়, খুনি কামাল ফকিরের হেফাজত থেকে মৃত রাবেয়া খাতুনের ব্যবহৃত মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে জেল হাজতে আছে।

