সুমন ভৌমিকঃ গৌরীপুর উপজেলার বেতনদর বাজার এলাকার এক পনেরো বছর বয়সী কিশোরীর নাম সোনিয়া। স্বপ্ন, সম্ভ্রম আর জীবনের সরলতায় ভরা এই কিশোরীর জীবনে নেমে আসে ভয়ংকর এক অন্ধকার, যখন চারজন নরপিশাচ তাকে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার করে।
ঘটনার শিকার হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সোনিয়া। সমাজের চোখ রাঙানি, লজ্জা ও হতাশায় সে জীবনের প্রতি সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দেয় সে। কিন্তু ভাগ্যের আশীর্বাদে ঠিক সময়মতো খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার নবাগত চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন এর তত্বাবধানে মামলাটি ইন্সপেক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম (তদন্ত) এর হাতে তুলে দেন। ইন্সপেক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম (তদন্ত) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যবহার করে অভিযানে নামে।
অল্প সময়ের মধ্যেই দুই অভিযুক্ত জয় দাস (১৬), পিতা বিশ্বজিৎ দাস এবং কাইয়ুম (১৯), পিতা ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ চলছে।
এছাড়া মামলার বাকি দুই পলাতক আসামী পলাশ ওরফে রায়হান ও তার সহযোগীকে ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, পলাতক আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
অপরাধীদের গ্রেফতারে ময়মনসিংহের সর্বস্তরের জনগণ কোতোয়ালী পুলিশের যোগ্যতা ও সফলতার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে কিশোরীকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচানো এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা নিঃসন্দেহে দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ হিসাবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

