রোকসানা আক্তারঃ শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চিথলিয়া আনন্দপুর বাজারের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন (৬০) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা অবস্থায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। উনার মৃত্যুর সংবাদ স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করা হয় এবং এলাকার লোকজন জানাজায় অংশগ্রহণ করে লাশ দাফন করে বলে এলাকাবাসী জানায়।
আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো, মৃত্যুর সাত দিন পার করে ৭ মার্চ মফিজ উদ্দিন এর স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে শেরপুর জেলায় নকলা আমলী আদালতে নুর আলমসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, মফিজ উদ্দিন মারা যাওয়ার তিন মাস আগে ২৫-১১-২৩ ইং তারিখে আপন ভাতিজা নুর আলম গংদ্বয়ের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ হয়। বিরোধের জের ধরে মফিজ উদ্দিন এর পুত্র সোহেল গংদ্বয়ের সাথে মারামারি হয়। এই মারামারির বিষয় নিয়ে নকলা আমলী আদালতে ২৯-০১- ২৪ তারিখে একটি সিআর ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন নুর আলম সোহেল গংদ্বয়ের বিরুদ্ধে। কোট মামলাটি আমলে নিয়ে নকলা থানা পুলিশকে তদন্তভার অর্পণ করেন।
নকলা থানা পুলিশ তদন্ত শেষ করে ২৪-০২-২৪ ইং তারিখে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড-১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারার অপরাধে কোটে চার্জসিট দাখিল করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার্জশিট আসামিদের বিপক্ষে আসায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী নুর আলম গংদ্বয়ের বিরুদ্ধে আসামী সোহেল গংদ্বয়ের পিতার স্বাভাবিক মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে মাকে দিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করায়।
এলাকাবাসী জানায়, মফিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং তার শরীরের লিভারে পানি জমে ছিল। অসুস্থ অবস্থায় মফিজ উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় জনগণের দাবি মিথ্যে মামলাটি অন্যদিকে ধাবিত না হয়ে-সুষ্ঠু এবং সঠিক তদন্ত যেন হয়।

