একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার ঘটনায় ডিবি পুলিশ এজাহার নামীয় মূল আসামী গ্রেফতার না করে, সন্দেহ করে যাকে তাকে গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করিয়ে মূল খুনিদের আড়াল করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে ৬/৭ শ এলাকাবাসী শান্তিপ্রিয় ভাবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা প্রশাসককে ১৯ মে দুপুরে স্মারকলিপি দিয়েছেন। পরে জেলা পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ সুপার আবিদ হোসেন বলেন “এ মামলায় আসামী ধরা হয়েছে, কিসের স্মারকলিপি”? জনগন পুলিশী কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে মূল খুনিদের গ্রেফতারের দাবী জানালে, পুলিশ সুপার ক্ষোদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সাথে সাথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। থানা পুলিশের কেউ উপস্থিত না থাকায়, ডিবি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ করে ৩ জনকে ধরে নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন আলমগীর হোসেন, সানাউল হক সানি ও বাবু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসার পর পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেন। দীর্ঘ সময় শত শত লোক জমায়েত হয়ে মানববন্ধন করে উল্লেখিত বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করলে থানা পুলিশে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
নিহত রাসেল এর পরিবার সূত্র জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ন ভাবে ঘন্টাব্যাপী বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি অফিসের সামনে মানববন্ধন করে এজাহার নামীয় প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পুলিশের আশ্বাসে তারা খুশি হন। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তিনি ন্যায় বিচার আশ্বাসে আশস্থ করেন। এর পরে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে সাদাপোষাকের পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন। এসময় পুলিশ তিনজনকে আটক করেন। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হয় বলে উপস্থিত লোকজন দাবী করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ আটককৃতদের ছেড়ে দেন। এরপর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন।
জানা যায়, যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার মূল আসামী ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাাহ্ আল মামুন আরিফ। বিগত দিনের বহু ঘটনায় আরিফ বিতর্কিত। আরিফের চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায়, আরিফ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এতেহশামুল আলম এর চেম্বার ও বাসভবনে হামলা করে। এতে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ ক্ষিপ্ত হয় ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ে সভা করে। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। একাধিকবার এ ধরনের প্রতিবাদসহ বহুবার হাজার হাজার জনতা মানববন্ধন করে ও আরিফের সন্ত্রাসের বিচার দাবী করে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একাধিকবার স্বারকলিপি দিয়েছেন।
আরিফের নামে প্রায় অর্ধশত জিডিসহ একাধিক মামলাও রয়েছে। এরপরও প্রশাসন আজ অবদি কোন ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হননি! শিল্প ও বানিজ্য মেলায় লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগ রয়েছে। ঘাট দখল, সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রন, বালু মহল দখল ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজীতে জনমনে আতংক রয়েছে।

