সুমন ভৌমিকঃ কঠোর শ্রম ও মেধা দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ নগরীর ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমান। তিনি গত ২৮ ফেব্রয়ারি ফাঁড়িতে যোগদান করে ফাঁড়ি অঞ্চলকে নিরাপদ রাখতে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের পরামর্শ দিয়ে ও কাজে লাগিয়ে ফাঁড়ি এলাকার সাধারণ জনগণকে নিরাপদে রেখেছেন। এর আগে তিনি ফুলপুর থানায় ওসি (তদন্ত) পদে যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এর দিকনির্দেশনায় ও ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার (পিপিএম-বার) এর তত্বাবধানে ১নং ফাঁড়ির নবাগত ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে গত দুই মাসে ফাঁড়ি এলাকায় ভাল সফলতা পেয়েছে।
রাত যত গভীর হয় স্টেশন রোড এলাকায় ভাসমান পতিতা ও হিজরাদের উৎপাত চরম আকার ধারণ করে। নিষিদ্ধ পল্লীতে অবৈধ চুলাই মদসহ মাদকের জমজমাট ব্যবসা ছিল। নবাগত ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান যোগদান করেই এই সব অবৈধ কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করেছেন। এছাড়া ১নং ফাঁড়ি এলাকায় মাদক জোন হিসাবে পরিচিত বাঘমারা, ব্রাহ্মপল্লী, পুরোহিতপাড়া, কৃষ্টপুর, পাটগুদাম, ডিবি রোড, কেওয়াটখালী ও বাকৃবি শেষ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ মাদক স্পটগুলো ফাঁড়ির পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে।
ফাঁড়ির ইনচার্জ ১নং ফাঁড়িতে যোগদান করেন দুই মাস হয়েছে। এই দুই মাসে তার নেতৃত্বে¡ ফাঁড়ির এসআই, এএসআই ও পুলিশ সদস্যরা অপরাধীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিদিন ফাঁড়ি এলাকায় ফাঁড়ি পুলিশের দিন-রাত টহল থাকায় অপরাধীরা অপরাধ করতে সুযোগ পাচ্ছে না। এছাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ মাদকসহ মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতারসহ সকল ধরণের অবৈধ ব্যবসা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ১নং ফাঁড়ি অঞ্চল নিরাপদ রেখেছেন।
ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে গত দুই মাসে ফাঁড়ি পুলিশের কঠোর পরিশ্রমে ৫টি জিআর সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও ৭ জন ছিনতাইকারী গ্রেফতার করে, জিআর ১৮টি ওয়ারেন্ট ও সিআর ২টি ওয়ারেন্ট তামিল করেছে। এছাড়া গত দুই মাসে ১০টি মাদক মামলায় ১৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ১০৫ লিটার চুলাই মদ, ৩০ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর ১নং ফাঁড়ির নবাগত ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, এসপি স্যারের দিকনির্দেশনায় ও কোতোয়ালী ওসি স্যারের পরামর্শে ফাঁড়ির পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। এসপি স্যার মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করায় ফাঁড়ির পুলিশ এর সদস্যরা সব সময় প্রস্তুত ছিল। আর প্রস্তুত থাকার ফলে নিষিদ্ধ পল্লী থেকে ১০৫ লিটার চুলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার এবং হেরোইন-গাঁজাসহ আরো মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জিআর সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট, জিআর ওয়ারেন্ট ও সিআর ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আসছে ঈদে নগরীর মার্কেট, শপিংমল ও বিপণি বিতানে কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে চুরি ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকার চিহ্নিত ৭ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং ঈদে নগরীর মার্কেট, শপিংমল ও বিপণি বিতানে নিরবিছিন্ন নিরাপত্তা দিতে সবসময় আমরা প্রস্তুত। এছাড়া ঈদে বাড়ি ফেরত যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে কাজ করে যাচ্ছি।
১নং ফাঁড়ির এলাকাবাসী জানায়, আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। ফাঁড়ির পুলিশের তৎপরতায় অপরাধ কমে এসেছে। ফাঁড়ি এলাকায় ফাঁড়ি পুলিশের দিন-রাত টহল থাকায় অপরাধীরা পালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।

