সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান পরিচালনা করে ক্লুলেস হত্যা মামলার ২ নারীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞান পার্টির চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত অভিনব কায়দায় অটো চালকদের অজ্ঞানের মাধ্যমে অটো ছিনতাই করে অপরাধ করে আসছে। অপরাধের অভিনব কায়দাটি হলো, অজ্ঞান পার্টির চক্রের সদস্যরা প্রথমে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক অটো চালকদের সিলেকশন করে নিদিষ্ট স্থানে ভাড়া করে যাত্রী সেজে অটো রিজার্ভ করে। পথিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্য সকলেই জুস জাতীয় খাবার খায় এবং অটো চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জুস খাওয়ায়। নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর ফলে অটো চালক অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে অজ্ঞান পার্টির চক্রের সদস্যরা অটো ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

গত ১২ এপ্রিল গৌরীপুরের কলতাপাড়ার অটো চালক শাহিনুর ইসলাম (৫২) রুটি-রোজগারের জন্য অটো নিয়ে বের হয়। শাহিনুর প্রতিদিনের মত রাতে বাড়ি না আসলে পরদিন (১৩ এপ্রিল) তার স্ত্রী পারভীন আক্তার গৌরীপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন।
গত ১৬ এপ্রিল শাহিনুর ইসলামের স্ত্রী ফেসবুক পোষ্ট থেকে জানতে পারে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। স্ত্রী-ভাইয়েরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে গৌরীপুরের নন্দীগ্রামের আঃ রশিদের ছেলে শাহিনুর ইসলামের লাশ সনাক্ত করেন।
শাহিনুর এর লাশ সনাক্তের পর তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ১৯ এপ্রিল গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) ক্লুলেস হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশে প্রদান করেন।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার) এর নেতৃত্বে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রায় ২ মাস তদন্ত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসি ফুটেজে ছবি দেখে খুনীচক্রকে সনাক্ত করেন জেলা গোয়েন্দার চৌকস অফিসারগণ। ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) গাজীপুরের হোতাপাড়ার মনিপুর বাজার থেকে অজ্ঞান পার্টির চক্রের ২ নারীসহ ৪ খুনীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, খোরশেদ আলম, বকুল মিয়া, শেফালী বেগম ও ইয়াসমিন আক্তার। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায়।

গ্রেফতারকৃত খুনীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অভিযান পরিচালনা করে নেত্রকোণা জেলার দূর্গাপুর থেকে ছিনতাইকৃত ২টি ব্যাটারী চালিত অটো এবং ১টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২ জুলাই (শুক্রবার) গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে শাহিনুর ইসলাম হত্যাকান্ডসহ অটো ছিনতাইয়ের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
উল্লেখ্য, অজ্ঞান পার্টির চক্রটি গত ২৬ জুন নান্দাইল থানা এলাকায় একই কায়দায় একটি অটো রিজার্ভ করে পথিমধ্যে চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অটো ছিনতাই করে। অটো চালক সাইদুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নান্দাইল থানায় মামলা নং-০১(৭)২০২১ মামলা করেন।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র ওসি মোঃ শাহ কামাল আকন্দ জানান, আরো একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে সফল অভিযান পরিচালনা শেষে এসপি স্যার পুরস্কার ঘোষণা করেন। অভিযান শেষে আমি কর্মস্থলে হাজির হইয়া এসপি স্যারের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থা’র সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছি। এর ফলে অফিসার ফোর্স এর মাঝে কর্ম উদ্দীপনা আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

