নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৭তম জন্মদিন ছিল শুক্রবার। তবে বন্দি থাকায় কারাগারেই তাকে জন্মদিন পার করতে হয়। যদিও জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে কারাগারে দেখা করেছেন তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, ছোট মেয়ে শাফারু মির্জা সুমি। তার সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকা থেকে এসেছেন তার বোন।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে তারা কেরানীগঞ্জের কারাগারে যান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব তথ্য জানান।
এ ছাড়া তাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের সিনিয়র ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা শুভকামনা ও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। মির্জা ফখরুল ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের মার্চে দলের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এর আগে তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আসার আগে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় ওই আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির জি এম সিরাজ সংসদে যান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন। তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (পরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম হল) শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল আশির দশকে মূলধারার রাজনীতিতে আসেন। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে মির্জা শাফারুহ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। মির্জা ফখরুল ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

