সুমন ভৌমিকঃ ‘আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ’ রক্তে রাঙানো সেই ফেব্রুয়ারি মাস “ভাষা আন্দোলনের মাস”। বাঙালি জাতি পুরো মাসজুড়ে স্মৃতিকাব্য রচনা করবে ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিল তাদের।
ঠিক সেই মাসে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে এক মাস ব্যাপি শিল্প ও বানিজ্য মেলায় চলছে অশ্লীল নাচ। মাতৃভাষা আন্দোলনের মাসে এমন অশ্লীলতা ঠেকাতে নেই প্রশাসনের মাথা ব্যাথা বা কোন সংগঠনের প্রভাব।
সূত্র জানায়, প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে সবকিছু চলছে। চলছে বেপরোয়া ভাবে!
এই ফেব্রুয়ারি মাসে নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা অধিকারে আন্দোলন করে শহীদ হয়েছিল সালাম, রফিক, বরকত, জাব্বার সহ নাম না জানা অনেকে। আর এই ভাষা’র মাসেই ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে চলছে বিদেশী গানে ও নৃত্যে অপসংস্কৃতি। জাতির আত্মা নামক সংস্কৃতি যদি অপসংস্কৃতির মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তাহ’লে সে জাতিও ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
সংবাদ পেয়ে অশ্লীলতা চলছে কিনা এসব দেখতে শিল্প ও বানিজ্য মেলায় ঢুকলে মেলার কর্মকর্তারা সাংবাদিক পরিচয় জেনে পিছে লাগিয়ে দেয় টিকটিকি ও পরে মুঠোফোনে যোগাযোগও করে।
উদ্দেশ্য ছিল মেলায় যাবো এবং ম্যাগাজিন ও বিচিত্রা অনুষ্টানটি দেখবো। ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা শিল্প ও বানিজ্য মেলায় ঢুকলে তাদের ম্যানেজ করা হয় এবং বিচিত্রানুষ্ঠানে ভিডিও করতে নিষেদ করা হয়। ম্যাগাজিন ও বিচিত্রা অনুষ্টানের ভিতরে অশ্লীল নাচ শুরু হওয়ার আগেই দাড়োয়ান ও পুলিশ সদস্যরা ডিউটিতে ব্যস্ত ছিল। প্রথমবার সফল হতে পারিনি। দ্বিতীয়বার টিকেট ক্রয় করে কৌশলে ম্যাগাজিন ও বিচিত্রা অনুষ্টানে ঢুকে পড়ি।
সেখানে দেখা যায় বিচিত্র অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি নাচ আর হট গান। ডিজে গানের সাথে ডুমধারাক্কা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির নাচে উৎসুক কোমলমতি যুবক, পিপাসুদের মাতাতে চলে আসে শান্তা সহ কয়েকজন ড্যান্স তারকা। তাদের অশ্লীল নৃত্য যেন ৭০ বছরের কোঠায় বৃদ্ধ পিপাসুদের যৌবনের সেই ডাক দিয়ে যায়! ১২ থেকে ১৭ বছরের তরুণরা রঙ্গীন স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠে। তরুণ বয়সে অপশিক্ষাকে গ্রহনের ফলে তুরুণদের ভবিষ্যত ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে এই শিল্প ও বানিজ্য মেলার আয়োজকের কতিপয় কর্মকর্তারগণ।
এসময় ড্যান্সের দিকে তাকালে চোখে পরে মানুষের মধ্যে ডিউটিরত অবস্থায় কিছু লোক উকি দিচ্ছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই মাইকে ঘোষনা এলো কেউ ভিডিও করবেন না, মেলার কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। বুঝতে বাকি রইলো না। ক্যামেরা অথবা মোবাইলে কেউ ভিডিও করছে কিনা তা ফলো করছে লোকগুলো। কিন্তু এ প্রতিবেদক সুকৌশলে অশ্লীল নৃত্যে’র ভিডিওটি রেকর্ড করে ফেলে।
ময়মনসিংহের আস্থাভাজন সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান যতদিন মন্ত্রী ছিলেন ততদিন এই ময়মনসিংহ সদরে কোন অশ্লীল নৃত্য করতে দেয়া হয়নি কিন্তু এখন তা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের সুশীল সমাজ ও নিজ সংস্কৃতি প্রেমীদের দাবি, জেলা প্রশাসন অশ্লীল নৃত্য বন্ধের ব্যবস্থা নিবেন এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবেন।

