চীফ রিপোর্টারঃ সদ্য সমাপ্ত মসিক নির্বাচন। প্রথম নগর পিতা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে আগেই। বাদ ছিলো পুরুষ ও মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচনের। তাও হয়ে গেলো। উৎসব মুখর পরিবেশ-ই ছিলো ৫ মে। সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।
গত ৫ মে ভোট দান শেষে বিজয়ী হয় ৩৩ টি ওয়ার্ড থেকে নব নির্বাচিত (নারী ও পুরুষ) ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ ।
নির্বাচন কমিশন শতভাগ সচ্ছতার দাবী করেছেন। প্রশাসনিক কর্তাবাবু রা বলেছেন কোন প্রকার অনিয়ম বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিহীন নির্বাচন অনুকরনীয়। এটি কে অনেক লোকাল গনমাধ্যেম কর্মীরা ময়মনসিংহের নির্বাচনীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম নির্বাচনের দাবী করে বলেন ‘ নির্বাচন অত্যন্ত ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে’।
সর্ব মহলে প্রশংসিত নির্বাচনটি নিয়ে বাদ সাধলো ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এডভোকেট এ.বি.এম নুরুজ্জামান খোকন। তিনি তার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম ফেসবুকে একটি স্টেটাস আপলোড করেন। যারপরনাই আলোচনা তুঙ্গে।
ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এডভোকেট এ.বি.এম নুরুজ্জামান খোকনের স্টেটাসটি ভাইরাল।কিন্তু মসিক নির্বাচন নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন “ব্যালটে চুরি করা যায়,আর ইভিএম এ করা যায় ডাকাতি….!(ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা)” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি এডভোকেট এ.বি.এম নুরুজ্জামান খোকনের স্ট্যাটাস এখন ভাইরাল।
এর পরই শহরে ঘটে যায় আলোড়ন। আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া স্টেটাসে সমর্থন মূলক কমেন্ট করেন আমিনুল ইসলাম আমিনুল।
তিনি লিখেছেন “যিনি পরিচালনা করে যে কাউকে বিজয়ী করতে পারে’ “কতৃপক্ষ মেনেজ হলেই মিনিটে ৬০/৭০ ভোট মোবাইল বাটন যেভাবে টিপে ঐভাবে ৫০০ চাপ দিলে ভোট হয়ে যাবে। ৫৫% ভোটার হয়েছে ৪৫% বৃদ্ধ খড়া অন্দ প্রতিবন্দীর ভোট কে দিলো ঐ ইভিএম পরিচালক টাকার খেলা জনতা যাকে চেয়েছে সে জয়ী হয়নি ১০০% সত্য”।
কামরুল হাসান নামে একজন মন্তব্য করেছেন- “আমরা কিছু বললে সরকারের ইজ্জত থাকেনা আপনীতো হাড়ী ভেঙ্গে দিলেন”।
আওয়ামীলীগ নেতার সাথে একাত্ততা নিয়ে মন্তব্য করেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার কবির মিটল । তিনি বলেন “বড় ভাই একদম মনের কথাটা কইলা”।
শাওন খান বলেন “সরকার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আপনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন” পাল্টা যুক্তিতে তিনি বলেন ‘নুরুজ্জামান খোকন বড় বড় নেতাদের ভাবমূর্তি জন্ম দেয় ক্ষুন্ন করে না….”।
শেখ কামরুল ইসলাম কামরুল লিখেছেন-“বিএনপির মতো কথা বলেন কেন। দুইদিন পরে মনে হয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বলবেন”।
ফজলে রাব্বি লিখেছেন-“তাহলেতো চোরের চেয়ে ডাকাত হওয়াই ভাল”।
স্ট্যাটাসটিতে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া প্রার্থী ইলোরা পারভিন সম্পা লিখেছেন-“আমিও ডাকাতির শিকার..৭,৮,ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছি ভোট ডাকাতির কারনে। ভোট গণনার সময় নিজে যে বুথে ভোট দিয়েছি সেটিতে এক ভোটও পাইনি। আমি কি পাগল, যে নিজের ভোটটিও দেইনি??? ডিজিটাল যন্ত্রের ডিজিটাল চুরি!!!”।
তবে ভাইরাল হওয়া স্টেটাসটিতে সমালোচনা অনেক হলেও তিনি সাধুবাদ পেয়েছেন। এখানে রবিউল হোসাইন শাহীন কমেন্ট করেন “এইডা একটা কথা কইলান মিয়া ভাই? পদ থাকবো তো? আপনি আমার খুব পছন্দের একজন ভালো মানুষ।” পাল্টা কমেন্টে নুরুজ্জামান খোকন বলেন “নুরুজ্জামান খোকন অনেক পদ পাইছে….! সত্যি কথাটা তো কাউকে না কাউকে বলতে হবে…”।
এই কমেন্টের বিপরীতে নাদিরা সুলতানা লিখেছেন-“সম্মান জানাই আপনাদের মতো নেতাদের, যারা সত্যি বলতে পিছপা হয়না, আর ধিরাক জানাই সেই নেতাদের যারা দূর্নীতি দেখেও মুখবুজে জনণনের ক্ষতি করে,নিজের স্বার্থে আঘাত পড়লে বুঝা যায়, তাই আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিৎ”। এখানে আবারও প্রতিউত্তরে নাদিরা সুলতানাকে ধন্যবাদ জানান নুরুজ্জামান খোকন।
অবশ্য জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি এড. এবিএম নুরুজ্জামান খোকন স্ট্যাটাস দেয়ার বিষয়ে বলেন, “এটি অবশ্যই আমার দেয়া স্ট্যাটাস, আমার আইডি থেকে দেয়া স্ট্যাটাস,দায় দায়িত্ব নিয়েই দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, “আপনারা খবর নিয়ে দেখেন ঘটনা সত্য কিনা। আমার স্ট্যাটাসে অনেক প্রার্থী কমেন্টস করেছে। তাদের সাথেও কথা বলেন। আমার দেখা মুকুল নিকেতন কেন্দ্রে দিবা সরকার লিন্টু ভোট পাইছে ৪শত কত যেন, শীতল পাইছে ১৪৪ ভোট। সেখানে লিন্টুর ভোট শীতলকে ,শীতলের ভোট লিন্টুকে দেখানো হয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে রেজাল্ট দিতে পারে, ৫ ঘন্টা সময় লাগে কেন। প্রচুর পরিমানে টাকা পয়সার লেনদেন হইছে ময়মনসিংহে। ৫শত ১হাজার টাকার নোট ছাড়া কেউ কি ভোট কেন্দ্রে গেছে?” “বিশেষ করে বৃদ্ধ, বয়স্ক ভোটাররা যখন ভোট কেন্দ্রে গেছে আঙ্গুল দেয়ার পর ইভিএম ওপেন হয়ে গেছে। বলেছে আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। ভোটার যাওয়ার পর তাদের ইচ্ছামত ভোট দিছে”।
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, “৩২ নং ওয়ার্ডে সাগরের কথাই বলি। সেখানকার আকাশ বাতাস, গাছের পাতা বলছে সাগর সাগর। সাগরকে ফেল দেখানো হয়েছে। কেমনে হইছে।” প্রশ্ন রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি এড. নুরুজ্জামান খোকন।
এ বিষয়ে জানতে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল সংবাদকর্মীকে জানান, “সে তার ইচ্ছামত কথা বলেছে, এগুলো কথার কোন ভিত্তি নাই। তার দুইটা কথারই কোন ভিত্তি নাই”।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু কাউসার মোল্লা বলেন, ‘এটি তার ব্যাক্তিগত অভিমত। আমরা জানিনা। এখনও দেখি নাই। আমি তার স্ট্যাটাসটা দেখবো। তাকে জিগ্যাসাবাদ করবো।’
গত ৫ মে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্বতিতে ভোটিং সম্পন্ন হয়েছে। ৭ মে মঙ্গলবার ৪ টা ৪৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নুরুজ্জামান খোকন স্ট্যাটাসটি আপলোড করেন।
নানা প্রশ্ন এখন উকি-ঝুকিঁ দিচ্ছে ইভিএম এর মাধ্যেমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করনের ব্যাপারে। কারন মানুষ এখন অনেক ডিজিটাল চিন্তা-ভাবনা করে। আওয়ামী লীগ নেতার এমন মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নই করেনি বরং সরকারের সফলতার মুখে কালিমাপাত করেছে বলে ময়মনসিংহের রাজনৈতিক বোদ্ধাগণ অভিমত ব্যক্ত করেন। কারণ এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ‘ সত্যিই কি ইভিএম দিয়ে কারচুপি করা যায়’।
…..চলবে

