একাত্তর বাংলাঃ এগারোতম দিনে এসে থমকে গেছে বিআইডব্লিউটি-এর উচ্ছেদ অভিযান। বুড়িগঙ্গা ও হাইক্কা খালের মোহনায় অবৈধভাবে নির্মিত ১০তলা ভবনটি উচ্ছেদ করতে পারেননি বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আমিন মোমিন হাউজিংয়ের স্থাপনা ভাঙা শুরু হলেও কিছুক্ষণ পরই স্থগিত করা হয়।
এরপর সরিয়ে নেয়া হয় ঢাকা বন্দর প্রধানকে। এদিকে, আদালতের নির্দেশের পরও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিটকারী আইনজীবী।
বিআইডব্লিউটিএ’র চতুর্থ দফা উচ্ছেদের দ্বিতীয় দিন শুরুতেই এই ১০তলা ভবন অপসারণ করা নিয়ে জটিলতা শুরু। সিদ্ধান্ত নিতে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট এলেও বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটের অনাগ্রহে ভবনটি অপসারণ করা যায়নি।
বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমরা কোনো বাধা দেয়নি। সরকার যদি মনে করে এটা তাদের জায়গা তারা যা ইচ্ছা করবেন। আমার কোনো বক্তব্য নেই।’ রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট জেসমিন আক্তার বলেন, ‘একটা সেটআপ লাগে। আজ নেই। দুই একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেবো।’
মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখেন বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট। দুপুরের পর তুরাগ পাড়ে আলোচিত আমিন মোমিন হাউজিংয়ে নতুন করে মাপজোক করে বিআইডব্লিউটিএ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাউজিংয়ের বেশির ভাগ অবৈধ জমির মালিক স্বয়ং বিআইডব্লিউটিএ’র অন্যতম ঠিকাদার রাকিবুল আলম দীপু। ল্যান্ড সার্ভেয়ার বলেন, ‘নদীর সিএ খতিয়ানের এই অংশ পুরো ভরাট। আমরা এখন তুরাগ নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছি।’
পরে উচ্ছেদ শুরু হলেও ‘অজানা ফোনে’ তা আবারো বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা বন্দর প্রধানকে।
বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘অভিযানের সাপোর্টিং হিসেবে ছিলাম আমরা। এখন জটিলতা শুরু হয়েছে আমাকে প্রধান কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।’
বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখানে বেশ কয়েকজন সার্ভেয়ার কাজ করছে। এখানে আইনগত বাধা না থাকলে আর কোনো বাধা দেখছি না।’
এদিকে, আদালতের নির্দেশের পরও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিটকারী আইনজীবী।
রিটকারীর আইনজীবী মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, ‘এভাবে বাধা দিলে মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা আর থাকবে না। সেই সঙ্গে নদী দখলকারীরা উৎসাহিত হবে।’
উচ্ছেদ বন্ধে তৃতীয় কোনোপক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। এ যাবতকালের নদী দখলমুক্ত করার এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি এই আমিন মোমিন হাউজিংয়ে এসে মুখ থুবড়ে পড়লো। যা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল।
তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীখেকো অবৈধ দখলদারদের বাঁচাতে গিয়ে যদি উচ্ছেদ অভিযান বাধাগস্ত হয়, তাহলে কখনোই নদী দখল অভিযান সফল হবে না।

