মতিন রহমান।। জামালপুর জেলার একমাত্র আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমা (৭৩) কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খ্রিস্টান ধর্মীয় রীতি অনুসারে পারিবারিক সমাধিতে সমাহিত করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুন মুন জাহান লিজার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমার লাশকে জাতীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে লাশের উপর পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের দিঘলাকোনা গ্রামে নিজ বাড়িতে পরলোকগমন করেন তিনি।তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমা তাঁর সহধর্মিনী মিলন দাংগো ও একমাত্র ছেলে বকশীগঞ্জের সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জয় দাংগোসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দরিদ্র হলেও তিনি ছিলেন পরোপকারী ও সাদামনের মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে গারো আদিবাসীসহ পাহাড়ি বাঙালি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা যায় এবেন্দ্র সাংমা মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। জামালপুর জেলায় তিনিই ছিলেন একমাত্র আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে টানা নয়মাস যুদ্ধের রণাঙ্গণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি প্রথমে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় এবং পরে জামালপুরের ঐতিহাসিক কামালপুরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখেন।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার পাকস্থলিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে ব্যয়বহুল চিকিৎসা শুরু করতে না পেরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
বকশীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন মুন জাহান লিজা যোগদানের পরে বিষয়টি জানতে পারলে ছুটে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমার বাড়ীতে। তিনি তার চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন এবং আরো সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আরও ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা আর পাওয়া হলোনা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবেন্দ্র সাংমার।

