স্টাফ রিপোর্টারঃ ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া বাজারে প্রকাশ্যে মাদক নেই। আপনি ইচ্ছা করলেই টাকা দিয়ে মাদক পাবেন না। এলাকাবাসী জানায়, মাদক পেতে হলে ভবানীপুর ইউনিয়নের একটি নেটওয়ার্ক আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলেই মাদকের সব আইটেম পাওয়া যাবে। কি নেই? গাঁজা, চুলাই মদ, ফেন্সিডিল , ইয়াবা, হেরোইনসহ সবাই পাওয়া যায় এই নেটওয়ার্কের কাছে। আর এই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন কথিত ফুলবাড়িয়ার পুলিশ সোর্স নামে খ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর।
এলাকাবাসী আরো জানায়, জাহাঙ্গীরের মাদক সাম্রাজ্য ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বিস্তৃত আছে। কথিত পুলিশের সোর্স হওয়াতে ধরপাকড়ের ব্যবসাটা খুবই ভাল বোঝেন। এলাকাবাসী জানায়, কথিত পুলিশের সোর্স মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কোন ব্যবসা নেই, এলাকায় মাদক বিক্রি করে চলে তার সংসার। পাশাপাশি আসামীকে পুলিশ কাস্টডি থেকে ছাড়ানোর নামে সামারি বানিজ্যতো আছেই।
১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নে স্থানীয় থানা পুলিশ জাহাঙ্গীরের মাদক সাম্রাজ্য পতনের উদ্যোগ না নেয়ায় জাহাঙ্গীর আরো বেপোয়ারা হয়ে উঠে। ঠিক সেসময় গত ১৩ জানুয়ারি/২০২১ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র কাছে গোপনভিত্তিক সংবাদ আসে জাহাঙ্গীর মাদকসহ কান্দানিয়া বাজারে অবস্থান করছে। এসআই মোঃ আলাউদ্দিন বাদল সংগীয় অফিসার ফোর্স এর আভিযানিক দল ফুলবাড়ীয়া থানা এলাকায় ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া বাজার থেকে ১০ গ্রাম হেরোইনসহ কথিত পুলিশের সোর্স মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর (৩৯)-কে গ্রেফতার করে মাদক মামলায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মোট ৩টি মামলা রয়েছে।
মাদক মামলায় জামিনে এসে তার বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার স্বাক্ষীদের মেরে ফেলার বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। জাহাঙ্গীরের মাদক মামলার স্বাক্ষী মোঃ আজম খান জাহাঙ্গীরের হুমকি-ধমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গত ২৬ মে/২০২১ ফুলবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে পত্রে স্বাক্ষী মোঃ আজম খান লিখেন, গত ১৩ জানুয়ারি/২০২১ রাত ৮টায় কান্দানিয়া বাজারস্থ সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন জৈনক মোতালেব এর মুদির দোকানের সামনে ছিলাম। একইদিন রাত অনুমান ৮টা ৩০ মিনিটে ডিবি পুলিশ মোতালেব এর মুদির দোকানের সামনে এসে জাহাঙ্গীর এর পকেট থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করে। মাদক জব্দের সময় বাজারের লোকজনসহ আমি ও তোফায়েল ছিলাম। ডিবি পুলিশ জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর দিতে বললে আমি সহ তোফায়েল আহমেদ জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করি।
অভিযোগ পত্রে আরো লিখেন, উক্ত মামলায় আমি সহ তোফায়েল সাক্ষী হওয়ার কারণে জাহাঙ্গীর আমাকে সহ তোফায়েলকে খুন জখম করার জন্য সময় সুযোগ খোঁজতে ছিল। এমতাবস্থায় গত ২৪ মে/২০২১ রাত অনুমান ১০ ঘটিকার সময় বিবাদী জাহাঙ্গীর আমাকে সহ তোফায়েল আহমেদকে কান্দানিয়া বাজার সংলগ্ন বাংলালিংক টাওয়ারের কাছে পেয়ে আমাদের হুমকি দেয়। হুমকি দিয়ে বলে আমি সহ তোফায়েল আহমেদ যদি মাদক মামলার সাক্ষী দেই তাহলে বিবাদী জাহাঙ্গীর আমাদেরকে সময়-সুযোগমতো পাইলে খুন করিয়া লাশ গুম করে ফেলবে।
১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নের কথিত পুলিশের সোর্স মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর তার বিরুদ্ধে আনা মাদক মামলার স্বাক্ষী আজম ও তোফায়েলকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে স্বাক্ষী না দেয়ার জন্য। জাহাঙ্গীর স্বাক্ষীদের হুমকী দিয়ে মামলাটি সঠিক বিচারে বাঁধাগ্রস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এর জরুরী দৃষ্টি আকর্ষণ এর দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

