একাত্তর বাংলাঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধুনট উপজেলার নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের আতঙ্কের নাম ছিল যমুনা নদী। বর্ষা এবং খরা উভয় মৌসুমে বন্যা এবং নদী ভাঙনে প্রতিবছর বসতবাড়ি এবং শতশত একর জমি বিলীন হতো যমুনাতে।
তবে গত ১০ বছরে মাটির বাঁধ এবং কংক্রিটের ব্লক তৈরি করে নদীর তীর সংরক্ষণ করায় স্বস্তি মিলেছে সেখানকার মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, আরো কিছু কাজ করলে দুর্ভোগ থেকে চিরস্থায়ী সমাধান এবং হারানো জমি ফিরে পাবে এলাকার মানুষ।
কয়েক বছর আগেও একের পর এক মাটির বাঁধ দিয়ে কোনভাবেই যমুনার ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না। তারপরই সরকার স্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে হাতে নেয় কংক্রিটের ব্লক দিয়ে যমুনার তীর সংরক্ষণের কাজ। এই কাজ শেষ হবার পর গত দু’বছর ধরে এলাকায় জমি ও বাড়িঘর বন্যায় বিলীন হচ্ছে না। এতে মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, শুধু বাঁধ নিয়ন্ত্রণের কাজ করলেই হবে না পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য তদারকিও সঠিকভাবে করতে হবে।
ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম তৌহিদুল আলম মামুন বলেন, শুধু বন্যার সময় তদারকি করতে গিয়ে যেমন সরকাররে ক্ষতি হচ্ছে, আমরাও বার বার ভাঙ্গনের মুখে পড়ছি। তাই শুষ্ক মৌসুমেও এটা বজায় রাখা উচিত।
পানি উন্নয়ন বিভাগের মতে, যমুনার ভাঙন এবং বন্যার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে নদী খনন, তীর সংরক্ষণসহ আরো কিছু কাজ করা দরকার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নদী থেকে আমরা যেন ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে হারানো নদী ফিরিয়ে আনতে পারি এ পরিকল্পনা আছে। এটা একতা মেগা প্রকল্প হবে।’
প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার কংক্রিটের ব্লক দিয়ে যমুনার তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি এবং ধুনট এলাকায়। এর আগের এই অঞ্চলে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি বালির বাঁধ দেয়া হয়েছিল যার সবগুলোই এখন নদীর গর্ভে।

