একাত্তর বাংলাঃ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। ওই দিন বেগম জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আপিল শুনানি হবে। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে উভয়পক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। বেগম জিয়ার আইনজীবীরা, এ আদেশকে নজিরবিহীন বললেও অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, জামিনের আদেশ যে ঠিক ছিল না আপিল বিভাগের এ আদেশে তা প্রমাণিত হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার জামিন বহাল থাকবে কিনা এ নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই সরগরম ছিলে সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি জানান,তারা সর্বসম্মতিক্রমে বেগম জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখার পক্ষে একমত হয়েছেন।ঐ দিন হবে জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি।
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, এই মামলায় লিভ গ্রান্ট করা হয়েছে এবং স্টে থাকবে। আগামী ৮ মে মামলাটির আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। ৭ মে’র মধ্যে আমাদের পেপারবুক দিতে বলেছেন।
বেগম জিয়ার আইনজীবীরা এ আদেশকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, তাদের এ বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আদালত আজকে যে রায় দিয়েছেন সেখানে বললেন, তারা সকলে একমত হয়েই আদেশটি দিয়েছেন। আমরা বুঝতেই পারলাম না আদালত কী আদেশ দিলেন। আদালত স্পেসিফিক কিছু বলেননি। আমি বলেছি, আমরা তো এখানে মেরিটে কোনো আর্গুমেন্ট করিনি। তার কোনো সদুত্তর আদালত আমাদের দেননি। আমরা মনে করি এটা একটা নজিরবিহীন আদেশ হয়েছে।
ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার যেভাবেই চেষ্টা করুক না কেন আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, জিনিসটাকে রাজনৈতিক করার জন্য তারা এসব করছেন।
তিনি জানান, বেগম জিয়ার জামিন আদেশ যে সঠিক ছিল না এ আদেশে তা প্রমাণিত।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, স্বাধীন বিচারবিভাগ একটি উপযুক্ত আদেশ দিয়েছেন বলেই আইনজীবী হিসেবে আমরা মনে করি।
গেল ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।আর ১২ ই মার্চ হাইকোর্ট থেকে ৪ মাসের জামিন পান বেগম জিয়া।

