একাত্তর বাংলাঃ খুচরা বিক্রেতা থেকে গ্রাহক পর্যায় কোথাও যাচাই এর সুযোগ না থাকায় নকল ওষুধে সয়লাব হচ্ছে বাজার। এতে নিজের অজান্তেই রোগমুক্তির বদলে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলনামূলক বেশি দাম আর প্রতিনিয়ত ব্যবহার হয় এমন ওষুধের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি বেশি। তাই দরকার সর্বস্তরে সচেতনতা। বিষয়টি আমলে নিয়েই চলমান অভিযানের পাশপাশি আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীতে গত কয়েকদিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধের বাজার। প্রায় প্রতিটি অভিযানেই মিলছে নকল ওষুধ। ইসসুলিন, ক্যানসার প্রতিরোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অস্ত্রপচারে ব্যবহৃত ওষুধই এসব তালিকায় এগিয়ে। আর এক্ষেত্রে ট্যাবলেট কিংবা ক্যাপসুলের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে ইনজেকশন।
রাজধানীর ফার্মেসিগুলো ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এক রকম অন্ধ বিশ্বাসেই ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। ওষুধ ক্রেতারা বলেন, ‘সরকারের উচিত পাবলিক যেন কোনো গবেষণাগারে যেয়ে মান যাচাই করতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করতে হয় এমন ওষুধই নকলের টার্গেট। সঙ্গে আছে অপারেশনে নিয়মিত ব্যবহার হয় এমন ওষুধ যার দাম একটু বেশি।
বিএসএমএমইউ’র ফার্মালোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে নকল ওষুধে বাজার ভরে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক। চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই সচেতন হতে হবে।’
ওষুধ প্রশাসন বলছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত। কাজ চলছে শেকড়সহ তুলে ফেলার। ওষুধ প্রশাসন পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ থেকে এই কুচক্রী মহলকে সমূলে উৎপাটন করবো আমরা। অভিযান প্রতিনিয়ত চলবে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো।
ওষুধের মান যাচাইয়ে নতুন কোনো পদ্ধতির কথা ভাবছে বলেও জানান তারা।

