একাত্তর বাংলাঃ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে স্থগিত কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই সাংবাদিকও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির কর্মীরা একত্র হয়ে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে স্থগিত কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন কমিটির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের ধাওয়া দেন আগে থেকে অবস্থানরতরা। এসময় বিদ্রোহীদের আটজন এবং স্থগিত কমিটির দুইজন আহত হন।
এরপর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাস গেট থেকে সরে গেলে স্থগিত কমিটির কর্মীরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মোবাইলে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিল্ডিংয়ের নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। এসময় কমপক্ষে পাঁচ সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। এদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে গেটে অবস্থান নেয় স্থগিত কমিটির কর্মীরা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে দৈনিক সংবাদের জবি প্রতিনিধি রাকিব আক্রান্ত হন। তাকে এলোপাতাড়ি আক্রমণ ও মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সুমনা হাসপাতালে পাঠায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যেন আরও খারাপ না হয়, তাই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ক্যাম্পাস শাখার নেতৃবৃন্দ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।’

