একাত্তর বাংলাঃ পরিচয় গোপন রেখে বিয়ে, দেড় মাসের মাথায় স্ত্রীকে খুন। তদন্তের দুই মাসের মাথায় স্বামী গ্রেফতার। ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়।
জানা গেছে, আশুলিয়া থানাধীন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার সময় পরিচয় হয় হোসনে আরা এবং ইউনুস আলীর। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়ে প্রেম ভালোবাসায়। ইউনুস হোসনে আরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রেজিস্ট্রি করতে টাকা লাগার অজুহাতে পরিচয় গোপন রেখে মৌলভী ডেকে বিয়ে করেন হোসনে আরাকে।
বিয়ের পর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। পর পুরুষের সাথে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি তিনি শেয়ার করেন নিকট আত্মীয়ের সাথে। তার পরিকল্পনা এবং পরামর্শ মতে স্ত্রীকে খুন করে পালানোর পরিকল্পনা করে ইউনুস আলী। সেই পরিকল্পনা থেকেই ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে ইউনুস।
খুনের পর স্ত্রীর লাশ বাথ রুমে রেখে স্ত্রীর মোবাইল, কানের দুল এবং নূপুরসহ নিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে আগের স্ত্রীর বাড়ি পালিয়ে যান ইউনুছ আলী।
দুই দিন পর ঘর থেকে লাশের গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী আশুলিয়া থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘরের তালা ভেঙ্গে বাথ রুম থেকে অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে। হোসনে আরা (৩৫) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত মনিরুজ্জামানের মেয়ে।
এরপর হোসনে আরা’র বোন স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত মামলা করেন। আশুলিয়া থানা পুলিশ তিন মাস মামলাটি তদন্ত করলেও তেমন কোন অগ্রগতি না থাকায় মামলার বাদী পিবিআই ঢাকা জেলা অফিসে এসে মামলাটি স্ব-উদ্যোগে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এরপর পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা জেলার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সালেহ ইমরান গত ১১ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে নেন।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সালেহ ইমরান জানান, ‘তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সোর্স এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পারি অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউসুফ নয় তার আসল নাম ইউনুস আলী (২৫)।
তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার চান্দাই পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত বাবু প্রামাণিকের ছেলে। মামলার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউনুস এর ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্তা নিশ্চিত হয়ে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি)। ইউনুস আলীকে নাটোর জেলার সিংড়া থানা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইউনুস স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার স্ত্রী ভিকটিম হোসনে আরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং পায়ের নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পিবিআই ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান বারী নূর জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে । সামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সাথে আরও কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

