জামালপুর প্রতিনিধিঃ-
নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রাখায় জেলায় শ্রেষ্ট জয়িতার পুরস্কার পেয়েছেন আদিবাসী নারী প্রণালী ম্রং। “জয়িতা তোমরাই বাংলাদেশের বাতিঘর” আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে গত শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জয়িতাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে ৫ জনকে সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট তুলে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রনালী ম্রং একজন। প্রণালী ম্রং বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের দিঘলাকোনা গ্রামের মৃদুল চিসিমের স্ত্রী।
জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো.শফিউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোক্তার হোসেন।
জানা যায়,আদিবাসী নারী প্রনালী ম্রং কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলাধীন বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামাল ইউনিয়নে বাস্তবায়িত সমাজ পরিচালিত স্থায়িত্বশীল জীবিকায়ন ও সহনশীলতা কর্মসূচী প্রকল্পের নিয়মিত সদস্য। প্রকল্পটি অষ্ট্রোলিয়ান এইড ও কারিতাস অষ্ট্রোলিয়া এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়। প্রণালী ম্রং দিগলাকোনা গ্রামের একটি ক্লাষ্টারের সভাপতি। তিনি প্রত্যান্ত পাহাড়ী এলাকার দু:স্থ গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ ডেলিভারীর জন্য সিএমএলআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২২ সালে নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে ২টি মডিউল প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে বিনা পারিশ্রমিকে দরিদ্র মায়েদের নিরাপদ ডেলিভারীর কাজ করে যাচ্ছেন প্রণালী ম্রং। এ পর্যন্ত তিনি ৩২ টি নিরাপদ ডেলিভারী করিয়েছেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
প্রণালী ম্রং বলেন, সিএমএলআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে পাচঁটি মডিউলের মধ্যে তিনি দুইটি মডিউল প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কারিতাস কতৃক সূযোগ পেলে পাচঁটি কোর্সই সম্পন্ন করতে চান এবং কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই এলাকায় নিরাপদ ডেলিভারীর কাজ করে যেতে চান। জয়িতা পুরস্কার পাওয়ায় তিনি ভীষন আনন্দিত বলেও জানান।

