স্মার্ট কর্নার এবং রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ ময়মনসিংহে উদ্বোধন
সুমন ভৌমিকঃ শনিবার (৮ জুলাই) সকালে নগরীর শিববাড়িস্থ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে স্মার্ট কর্নার এবং রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ উদ্বোধন করা হয়।
স্মার্ট কার্যালয় বাস্তবায়ন ও রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসূচির আলোকে ময়মনসিংহে দলীয় কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবির বিন আনোয়ার। পরে দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবির বিন আনোয়ার।

এ সময় তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্মার্ট কার্যালয় বাস্তবায়ন ও রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসূচির আলোকে ময়মনসিংহে দলীয় কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন করা হলো।
তিনি বলেন, আগামী দিনে সরকার গঠন করলে আওয়ামী লীগের ভিশন হবে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ নির্মাণ। আগামী নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
দলীয় কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার এবং রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ উদ্বোধন শেষে তিনি নগরীর টাউনহল মোড়ে অবস্থিত তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে স্মার্ট কার্যালয় বাস্তবায়ন ও রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসূচি’র অন্য একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবির বিন আনোয়ার এবং সঞ্চলনা করেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুসহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি কবির বিন আনোয়ার বলেন, আপনাদের ব্রক্ষ্মপুত্র পাড়েই সভ্যতার বিস্তার ঘটেছিল। এই ব্রক্ষ্মপুত্র পাড়েই খনন করে সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মানুষ নিচের তলাতে বাস করতো।
তিনি বলেন, ৪৭ সালে যখন দেশ ভাগ হলো, বঙ্গবন্ধু তখন ছাত্র নেতা। ৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষনা করেন উর্দু হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্র ভাষা, যেখানে শতকরা ৫৬ জন বাংলা ভাষায় কথা বলে এবং শতকরা ৭ জন উর্দুতে কথা বলে। শতকরা ৭ জনের ভাষাকে আমাদের মাতৃভাষা চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাকে দমনের চেষ্টা করেছিল। তখনকার ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু প্রতিবাদ করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী চমৎকার করে বলেছেন ধর্ম যার যার-উৎসব সবার। এই শান্তি ও সম্প্রীতি নিয়ে আমরা পৃথিবীতে একটা শান্তি প্রিয় দেশ হিসাবে বসবাস করছি।
এসময় তিনি বলেন, ইচ্ছা করে পরিকল্পিতভাবে এদেশের রাজনীতিকে কুলসিত করেছিল জেনারেল জিয়া। যে সব রাজাকাররা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে ছিল, জেনারেল জিয়া তাদেরকে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে রাজনীতির সুযোগ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তিনি ক্যু’ করে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। এবারও বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ ধরার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যতখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কন্যা জীবিত আছেন-তার নেতৃত্বে সকল যড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

প্রধান অতিথি কবির বিন আনোয়ার এসময় আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা ডাক দিয়েছেন-আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সেই স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আজ ময়মনসিংহে শুরু হলো। আমরা ২৮টি দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটে স্মার্ট কার্যালয় বাস্তবায়ন করেছি। সাংগঠনিক জেলার স্মার্ট কর্নার তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখবে।

