সুমন ভৌমিকঃ এবার ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লিখক সমিতির লাখ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ন্ত্রণ এর দায়িত্বে এসেছে তথাকথিত সদর দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ স্বপন। তার নেতৃত্বে বহিরাগত চক্র আগের মতই চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু হাত বদল হয়েছে চাঁদা নিয়ন্ত্রনে। চাঁদাবাজীর মাত্রা কোন রকম পরিবর্তন হয়নি। বরং বিগত ঈদ উপলক্ষ্যে বোনাসের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উঠানোর নয়া রেকর্ড গড়েছে নব্য সিন্ডিকেট। ভূমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও নকল আবেদনকারীরা অবাধ চাঁদাবাজির মুখে পড়ে হয়রানির ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অন্য দিকে সাধারণ দলিল লিখকরা অতীতের মতই ভীতিকর অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগী মহলের অভিযোগ সদর দলির লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ স্বপন এখন অবৈধ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ নিয়ে সমিতির কম্পাউন্ডে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চাঁদাবাজি মুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে সদর দলিল লিখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় সন্ত্রাসী চক্র দেদারসে চালাচ্ছে ভূমি ক্রেতা ও নকল আবেদনকারীদের কাছে চাঁদাবাজি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কামাই করছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও অসাধু কতিপয় সরকারী কর্মচারী।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হতে হয়। অতীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের যে দৌরাত্ম চলছিল প্রকাশ্যে এখন তা কিছুটা ভিন্ন কৌশলে চললেও পরিস্থিতি কোন পরিবর্তন হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। জনদুর্ভোগের শিকার সূত্রগুলো বলছে চাঁদাবাজি ছাড়া দলিল ও নকল পাওয়া অসম্ভব।
ইদানিং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্টি অফিসের দলিল লিখক সমিতির চাঁদাবাজির দায়িত্ব নিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন নিজেই। আগের সন্ত্রাসী চক্রের জায়গায় নতুন চক্র অবস্থান নিয়ে নয়া কৌশলে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে সমিতির সীল মোহরকৃত টোকেন।
তবে তথ্যাভিজ্ঞ মহলসহ সাধারণ দলিল লিখকরা সদর দলিল লিখক সমিতিকে অনির্বাচিত ও অবৈধ এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপনকে তথাকথিত ও অবৈধ বলে দাবি করে আসছেন। সমিতির নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তার বাস্তবায়ন নেই। ফলে সমিতি হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির আখড়া।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্টি অফিসে দলিল করতে গেলে স্বপন গং এর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে দলিল সম্পাদনে প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে ১ম লাখে ৩ হাজার টাকা ও পরবর্তীতে প্রতি লাখে ৫ শত টাকা হারে চাঁদা আদায় করছে। যা নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধ।
জানা যায়, জমি সাব-কাওলা করতে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ে জমি’র মূল্য থেকে স্ট্যাম্প বাবদ, স্থানীয় কর, রেজিষ্ট্রি অফিস ফিস বাবদ প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে মোট ৯% হারে টাকা সোনালী ব্যাংকে চালান দিতে হয়। আর যদি সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে হয় তবে সিটিকর বাবদ ১% বেড়ে লাখ প্রতি ১০% হারে সোনালী ব্যাংকে চালান কাটতে হয়।
অন্যদিকে রেজিষ্ট্রি অফিসে নকল তুলতে গেলে সর্বসাকূল্যে সরকারি খরচ বাবদ প্রয়োজন ৮ শত টাকা মাত্র। কিন্তু এজন্য নকল প্রতি ৩/৪ হাজার টাকা দিতে হয় ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে। অভিযোগ রেকর্ড কিপার চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের যোগসাজসে এই টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেন। যত টাকার মূল্যের সম্পত্তি হোক হেবা দলিলে সরকারি ফিস ৪ শত টাকা। অথচ এখানেও চাঁদাবাজ চক্র অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগে জানা যায়।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের চালানের টাকা ছাড়া ১ টাকা বাড়তি দেওয়া নিয়ম নেই। অথচ চালানের পরও চাঁদাবাজ চক্র নিজস্ব নিয়মে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবাধ চাঁদাবাজি চলছে সদর সাব-রেজিষ্ট্র্রি অফিস কম্পাউন্ডে। অতীতে সমিতির কম্পাউন্ডে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী চক্র অবাধে কোটি কোটি টাকা চাঁদা হাতিয়ে নিয়েছে। এনিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রশ্ন ও হতাশা রয়েছে। ইদানিং চাঁদাবাজির হোতা বদল হয়েছে মাত্র।
দলিল লিখক সমিতির সীল ব্যবহার করে সমিতির নামে টাকা আদায় করা হলেও জানা যায় এখানে কোন বৈধ কমিটি নাই ! এমন কি বৈধভাবে গঠিত কোন ফান্ড নাই। তবে কার নির্দেশে, কার ইশারায়, অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে প্রকাশ্যে দিবালোকে সে প্রশ্ন সবার।
প্রশ্ন থেকে যায় ব্যাংকের চালানের পে-অর্ডার এর টাকা দেওয়ার পরেও বাড়তি টাকা উত্তোলন এর নামে অবাধে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় চলছেই। ইদানিং শুধু হাত বদল হয়েছে চাঁদা নিয়ন্ত্রণকারীর।

