সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ নভেম্বর (শুক্রবার) নগরীর শিববাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ তপন দে এর সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী মিলন কান্তি দত্ত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি শ্রী জে এল ভৌমিক, শ্রী পুরবী মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী দীপক কুমার পাল, দপ্তর সম্পাদক শ্রী বিপ্লব দে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইজ্ঞিনিয়ার রতন দত্ত।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী ভক্তিনন্দ, ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি এডঃ রাখাল চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক এডঃ পীযূষ কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ প্রশান্ত দাস চন্দন সহ প্রমুখ।

ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজন এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের প্রবেশ পথে আসার সাথে সাথে রমনীরা পুষ্প বৃষ্টি দিয়ে প্রিয় নেতৃবৃন্দকে বরণ করে নেন। এরপর কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ জাতীয় ও পূজা উদযাপন পরিষদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী মিলন কান্তি দত্ত বলেন, সারাদেশের পূজামণ্ডপে সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যা’র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রশাসন সময়পোযোগী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং রাজনৈতিক দলসমূহের আপাত নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, যারা পরিবারের আপনজনকে হারিয়েছে তা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই এবং সনাতন ধর্মবলম্বীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দ্রুত ব্যবস্থার করতে হবে। সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ১৯৭২ এর সংবিধান পূর্ণবাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিশেষ ট্রাইবুনালে প্রকৃত দোষীদের বিচারের পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দ্রুত ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী সকলকেই আইনের আওতায় আনতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, সরকার হামলার তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ সনাতন ধর্মবলম্বী পরিবার গুলোকে নগদ সহায়তা, খাদ্য, কাপড়, অন্যান্য নিত্যপণ্য ও গৃহ নির্মাণ সামগ্রী প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদকে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করেছেন।

ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়ে গত ৫০ বছরে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ সনাতন ধর্মবলম্বী দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যারা এখনো দেশকে ভালোবেসে মাতৃভূমিতে আছেন, তারাও পর্যায়ক্রমে সহিংসতার শিকার হয়ে আস্থার সংকটে পড়েছেন। এর কারনে সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। ১৯৭২ এর সংবিধান পূর্ণবাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আগামী ২ বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করার লক্ষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা আহবান করা হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে সুমন ভৌমিক নতুন কমিটিতে আবারো সভাপতি হিসাবে এডঃ তপন দে এর নাম প্রস্তাব করেন এবং সঞ্জীব সরকার সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তম চক্রবর্তী রকেট এর নাম প্রস্তাব করেন। সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে আর কারো নাম প্রস্তাব না করায় একক প্রার্থী হিসাবে সভাপতি পদে এডঃ তপন দে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তম চক্রবর্তী রকেটকে আগামী ২ বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

