সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান তার বিরুদ্ধে গত ২৩ আগষ্ট জেলা পরিষদের ১৭ জন সদস্যবৃন্দ অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা দুর্নীতির আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১২ টায় ময়মনসিংহ প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ইউসুফ খান পাঠান এই দাবী করেছেন। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতাম ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সন্মেলন করেছিল জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
সংবাদ সন্মেলনে, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা আনীত অভিযোগ আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে। এ কারনে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করতে এসেছি। বিগত সাড়ে তিন বছরের কার্যবিবরনীর ফিরিস্তি আপনাদের দিয়েছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জহিরুল হক হলের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকসুর সদস্য ছিলাম। ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম। আমি ভোটের মাধ্যমে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। এছাড়া ক্রীড়াঅঙ্গনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। কোথাও কোন জায়গায় এই সব সংগঠনের সাথে আমার হাত দিয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি। আমি দায়িত্বের সাথে কাজ করেছি। দলের দুর্দিনে রাজপথে সবাইকে নিয়ে আন্দেলন করেছি। কারও মধ্যে কোন দিধা-দন্ড ছিল না।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের প্রায় ৬শ প্রকল্প আছে। চেয়ারম্যান হিসাবে জেলা পরিষদ থেকে যে সব প্রকল্প দিয়েছি, সে সব প্রকল্পে একটি দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারলে এবং এই সব প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের যদি কোন নূন্যতম দুর্নীতি থাকে আমি তা মাথা পেতে নিবো।
একটি প্রকল্পে বারবার অর্থ বরাদ্দ বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলা ৪২শতাংস জায়গার উপর নির্মিত। ডাকবাংলা নির্মানের কাজে ৪৫ কোটি টাকা দরকার। জেলা পরিষদের আগের চেয়ারম্যান এডঃ জহিরুল হক খোকা ৩০ কোটি টাকা রেখেছেন। আমি ১২ কোটি টাকা বরাদ্ধ রেখেছি। এখানে সচ্ছতার কোন অভাব নেই।
এছাড়া তিনি বলেন, মুজিব বর্ষের জন্য জেলা পরিষদের ২০ জন সদস্যবৃন্দের একটি প্রকল্প তৈরী করার জন্য বলা হয়। সদস্যবৃন্দরা ৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করে। কেক কাটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিজন সদস্য ৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা চায়, আমি দেইনি। পরে কেক কাটার অনুষ্ঠানের জন্য ২ লাখ টাকা চাইলে, তাদেরকে ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ঘরোয়া আকারে ছোট পরিসরে করতে। জেলা পরিষদের সদসরা ২ লাখ টাকার জন্য মরণপণ লড়াই করলেও আমি দেইনি। এগুলো জনগণের টাকা। আমি যদি ২ লক্ষ টাকা মেম্বারদের দিয়ে দিতাম “আমি ভাল থাকতাম”। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া আমি কোন প্রকল্প বরাদ্দ দেই না।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি বাংলাদেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। “আমাকে হেয় করার জন্য” জেলা পরিষদে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা একটা রুটিন ওয়ার্ক। আমার কাছে তথ্য আছে, এই রুটিন ওয়ার্ক করে যারা, এই কারসাজিরা আওয়ামী রাজনীতিতে এক জায়গায় তারা বিবরণ দেয়। আমি কারও জায়গায় এসে বসে পড়িনি। আমি যখন জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলাম, দল তখন ক্ষমতায় ছিল। আমার বিরুদ্ধে তখন একটি অভিযোগও কেউ আনতে পারেনি। কিন্তু জেলা পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার পর হঠাৎ করে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো। আগামী দিনের রাজনীতির জন্য আমাকে কলুষিত করা, আমাকে বিতর্কীত করা এটা যদি সহজ হয়ে থাকে, তাহলে রাজনীতিতে সামনের দিকে তারা আগাতে পারবে না।
অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান এ সময় বলেন, পাটগুদাম মন্দির ভাঙ্গা নিয়ে একটি মহল নোংরা রাজনীতিতে মেতে উঠেছিল। আমি ওই মন্দিরে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। জেলা পরিষদ ১৫ আগষ্ট অনুষ্ঠান পালন করেছে। স্বজন প্রীতির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং লটারির মাধ্যমে টেন্ডারের কাজ বন্টন করা হয়। এখানে গোপন কোন কিছু নেই। এছাড়া তারাকান্দায় একটি দু’তলা মার্কেট নির্মান করে, ২৫ লক্ষ টাকা আয় করে জেলা পরিষদের ফান্ডে জমা রেখেছি।
এসময় তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, সংবাদ সন্মেলনে আমি সাড়ে তিন বছরের উন্নয়ন তুলে ধরতে পেরেছি। আমার জীবনে এটা শ্রেষ্ঠ সময়। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদকে সততার সাথে পরিচালনা করার জন্য।

