সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও পাঁচটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও আছে। আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক, ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের কৃষক লীগের সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম, ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের কৃষক লীগের সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল আওয়াল, ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের কৃষক লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম, ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান পলাশ সহ ১২ জন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হককে।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিজের জন্য কিছুই করেননি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যা পেয়েছেন তা সবই ইউনিয়নবাসীকে বিলিয়ে দিয়েছেন। এসএম শামছুল হক দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে দল ক্ষমতায় থাকা স্বত্বেও কোন সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ফলে তার রয়েছে খুবই জনপ্রিয়তা। আর এই জনপ্রিয়তায় ঈশ্বানিত হয়ে এবং দলের নির্দেশনা না মেনে কাজী নজরুল ইসলাম, এডভোকেট আব্দুল আওয়াল, হাসানুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান পলাশ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরে না দাঁড়ালে নৌকার সুনিশ্চিত বিজয়কে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করেন ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।
সূত্র জানায়, ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেপরোয়া। তারা অনেকেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আবার কেউ কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপচার চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর স্থানীয় একাংশের নেতাদের মদদে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করে মানবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে অপপ্রচার চালায়। ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নবাসী ব্যানারে মানবন্ধন করে অপচারকারীরা প্রতিবাদ করে বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামসুল হক শারীরিক ভাবে অক্ষম এবং বাক প্রতিবন্ধী সহ বিভিন্ন রকমের করুচিপূর্ণ কথাবার্তা। এ ঘটনায় দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হকের পক্ষে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করে। ফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহীরাই। এমন অবস্থায় একরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক নিজে হেঁটে হেঁটে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সুন্দর কথা বলছেন। পাশাপাশি বক্তৃতা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে কথা বললে তারা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় খুশীর জোয়ারে ভাসছে ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নবাসী। সর্বজন স্বীকৃত উদার ব্যক্তিত্ব যার জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছাড়া আর কিছুই আমলে নেননি। মেধা সম্পন্ন ও প্রতিবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মাঝে মনবোল বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেননি। যা পেয়েছেন আমাদের বিলিয়ে দিয়েছেন। আমাদের ইউনিয়নে অনেক নেতা আছেন দলের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তিনি ১৮ বছর যাবত আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দল ক্ষমতায়, তারপরেও নিজের জন্য কোন অর্থিক সুবিধা নেননি। দলকে ভালবাসেন বলেই নিজের কোন চাওয়া ছিলা না।
সাধারণ জনগণ আরো জানান কিছু দলীয় অসাধু, মিথ্যাবাদী, ক্ষমতালোভী নেতা কর্মীদের দ্বারায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী জানান আমরা সকলে নৌকার হয়ে কাজ করছি, নৌকার পক্ষে থাকবো, নৌকার পক্ষে আছি এবং নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। অন্যদিকে কয়েকজন নেতা জানান প্রার্থীর টাকা নেই, টাকা না ছিটালে নির্বাচন কে করবে!
দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক প্রতিবেদককে বলেন ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সাবেক চেয়ারম্যান ছিলাম, নিজের জন্য কিছুই করিনি। ১৮ বছর যাবত ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের সভাপতি দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কোন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নেইনি। এছাড়াও বিভিন্ন পদে ছিলাম ও আছি, তারপরেও কোন সঞ্চয় আমি করেনি।
তিনি বলেন ২ নং কুষ্টিয়া ইউনিয়ন নৌকার ভোটার অধ্যুষিত আওয়ামী লীগের ঘাটি। আমি বঙ্গবন্ধু আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে পূর্বের মতই ন্যয়নীতি ও সততা অনুসরণ করে জনগণের আমানতের খেয়ানত করেনি করবো না কোনদিন। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আগের মতই সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে প্রতিবাদী বলয় গড়ে তুলবো এবং দরিদ্র ও যুব সমাজকে কর্মমুখী করে তুলবো।
তিন আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন স্বার্থের মোহে আমি আমার নামের কলংক রচনা করে যেতে পারবো না এবং সে আলোকেই আমার নিজের জন্য লোভনীয় কোন স্বপ্ন আমি লালন করিনা। কেবলি ইউনিয়নবাসীর সোনালী স্বপ্ন পূরনের মুর্ত প্রতীক হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই। আর দলীয় নেতাকর্মী যারা আমার বিরুদ্ধে অপপচার চালাচ্ছে, তাদের একটাই ভয়-আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কোন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাবে না। আমি নির্বাচন করবো ভালবাসা দিয়ে কিন্তু কোন আর্থিক সুবিধা দিয়ে নয়। তিনি তার উপর আস্তা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা রেখে নৌকা প্রতীকে জনগনের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

