সুমন ভৌমিকঃ সারা দেশব্যাপী হেফাজতের নাশকতার অংশ হিসেবে গত ২৮ মার্চ ময়মনসিংহে নাশকতা সৃষ্টি করে ব্যাপক ভাংচুর, জনযান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরার অভিযোগে পরদিন কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত সাড়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ জন ব্যক্তিকে আসামী করে ১২৫ নং মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যাপক স্বাক্ষ প্রমান সংগ্রহ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে, আসামী সনাক্ত এর মাধ্যমে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেন।
২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে জন ও যান চলাচলে বাধাঁ সৃষ্টিকারী, আইন-শৃংখলা বাহিনীর উপর হামলাকারী, সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা ভাংচুরে অংশগ্রহনকারী তালতলা জামিয়া আরাবিয়া মাখজালুম মাদ্রাসার ছাত্র খালিদ মাহমুদ সারোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর মোঃ সফিকুল ইসলাম আসামীকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ধর্মের নামে আন্দোলনের কথা বলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মানসিকায় হেফাজতের সারা দেশব্যাপী নাশকতার অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে ব্যাপক নাশকতা চালায়। বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কোমলমতি ছেলেদের নিয়ে কতিপয় ধর্ম নেতা ও আলেম এবং দাওরা হাদিসের ছাত্রদের নেতৃত্বে গত ২৮ মার্চ শহরের বিভিন্ন স্থানে সরকারি কাজে বাধাঁ, সরকারি সম্পদ ভাংচুর, যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে নাশকতা চালায়। দায়িত্বরত পুলিশ প্রায় শ’খানেক গ্যাসসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় কোতোয়ালী মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদারসহ ৭ জন আহত হয়। পর দিন এসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় ১২৫ নং মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জমান (পিপিএম-সেবা) ও অধিনস্থ পুলিশ অফিসাদের নিয়ে সতর্কতার সাথে গুরুত্ব দিয়ে তিনি অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেফতার এর নির্দেশ দেন। ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে গ্রেফতার অভিযানে সংশ্লিষ্ট তালতলা জামিয়া আরাবিয়া মাখজালুম মাদ্রাসার ছাত্র খালিদ মাহমুদ সারোয়ার হোসেন (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

