সুমন ভৌমিকঃ সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর জাকজমক ভাবে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে যাবে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে উৎসব পালন করা হবে।
৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এর সভাপতিত্বে পুলিশ লাইন্সে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার আহমারউজ্জামান বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব হলো বাঙ্গালীর তিনটি উৎসবের মধ্যে একটি অন্যতম বড় উৎসব। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসবে পূজামন্ডপ গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। করোনার কারনে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকারের নির্দেশনানুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজাচলাকালীন সময়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উৎসব পালন করতে বলেন।
তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৪ হাজারের মত পূজা হয়, কিন্তু এবার সেখানে দুই থেকে আড়াইশ পূজা হবে। বাংলাদেশে ৩৬ হাজার পূজার মধ্যে ৩০ হাজারের অধিক পূজা হবে। অসাম্প্রদায়িক দেশ-বাংলাদেশ বলেই সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসব এর সময়ে মাদক বিক্রি বন্ধ থাকবে। উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না। উৎসবের উছিলায় গ্যাদারিং করা যাবে না। করোনা মহামারির কারনে সরকারের নির্দেশনানুযায়ী এবার পূজামন্ডপ গুলোতে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন এর পরিবর্তে পুলিশের প্রতিটি মোবাইল টিম ২-৩টা পূজা মন্ডপ গুলোতে টহল দিবে। কোন সমস্যা দেখা দিলে আমাদের নিকটসস্থ থানার ওসি বা ওসি তদন্তর সাথে যোগাযোগ রাখবেন। সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন করতে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে বিশেষ বিবেচনা করতে অনুরোধ জানান। সারা শহর ঘুরে পরিবেশ বিনষ্ট না করে, প্রতিমা বিসর্জনে র্যালী না করে এবং ওয়ান ওয়ে করে শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান, নিয়ম বিধি মেনে শারদীয় উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব ও দুটি ঈদ বাঙ্গালীদের তিনটি বড় উৎসব। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দুটি ঈদ উদযাপিত হয়েছে। সেইসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে উৎসব করতে গিয়ে কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি পুজা মন্ডপ ও মন্দিরে জীবানুনাশক, সেনিটাইজার, হাতধোয়ার ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং পারলে ক্যামারা লাগানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেচ্ছাসেবী গঠন করে ও জনপ্রতিনিধিদের সংযুক্ত করে মন্ডপ ও মন্দিরের পাহারার উদ্দ্যোগ নিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সনাতন নেতৃবৃন্দরা শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তবে তাদের মূল বক্তব্য ছিল করোনা মহামারি’র কারণে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকারের নির্দেশনানুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনে দূর্গাপূজা উৎসব পালন করবে। জেলায় মহানগরসহ ১৩টি উপজেলার ৭৫৬টি পূজা মন্ডপে দূর্গপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ বিকাশ রায়, ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ রাখাল সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ তপন দে, সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবত্তী রকেট, ময়মনসিংহ মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পবিত্র রঞ্জন রায়, সাংবাদিক অমিত রায়, সাংবাদিক রবীন্দ্রনাথ পাল সহ বিভিন্ন উপজেলার পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, মোঃ শাহজাহান, মোঃ ফজলে রাব্বি, মোঃ হাফিজ, বিভিন্ন সার্কেল এএসপি, টিআই সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ওসি ডিবি শাহ কামাল আকন্দ সহ বিভিন্ন থানার ওসিগণ।

