সুমন ভৌমিকঃ ‘মুজিববর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে কমিউনিটি পুলিশিং দিবস ২০২১ পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি যৌথ আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং দিবস ২০২১ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে পালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং দিবস উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে এক সমাবেশ এর আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু এবং প্রধান আলোচক রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার মোঃ হারুন অর রশিদ (বিপিএম)।

এছাড়া সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস, ময়মনসিংহ রেঞ্জ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শাহ আবিদ হোসেন (পিপিএম-বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা হক, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহ-সভাপতি ডাঃ কে আর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তা।
এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা আক্তার, বাকৃবি মসজিদের ইমাম মুফতি জালাল উদ্দিন, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজজী ভক্তি পদানন্দ সহ অন্যান্যরা।

এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও অফিসারগণ এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্যরা।
কমিউনিটি পুলিশিং দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা যদি বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করি, দেখবো অপরাধ প্রবণতা নিম্নমুখী। এটির অন্যতম কারণ পুলিশ এবং জনগনের সাথে একটি সুন্দর সম্প্রীতি। পুলিশ এবং জনগণ একে অপরের পাশে থেকে কাজ করছে।

প্রধান আলোচক রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার মোঃ হারুন অর রশিদ (বিপিএম) বলেন আমরা এখনও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি, সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম এবং নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আপনারা জানেন মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরব উজ্জল ভূমিকা রয়েছে। এসময় তিনি গভীর ভাবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং জাতীয় ৪ নেতাসহ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদেরকেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়াও স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ এবং ২ লাখ মা-বোন যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন।
রেঞ্জ ডিআইজি আরো বলেন বর্তমান সরকারের পলিসি হলো পুলিশি সেবাকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়া। এজন্য সেবাকে পৌছে দিতে হলে মানুষের দোড়গোড়ায় যেতে হবে। আগে সেবার জন্য থানায় আসতে হতো। কিন্তু এখন প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং এর অফিস হয়েছে এবং ঐখানে নিয়মিত পুলিশ অফিসার বসে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌছতে হবে। তাহলেই জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও সুখি, সমৃদ্ধ উন্নত দেশ গড়া সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেন পুলিশিং এর সদস্যরা তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলে আমাদের এসব সামাজিক সমস্যাগুলো বড় আকার ধারন করতে পারবে না। সামাজিক সমস্যা নিরসনে জনগণকে আরো বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।

ময়মনসিংহ রেঞ্জ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শাহ আবিদ হোসেন (পিপিএম-বার) বলেন স্বাধীনতা রক্তে রঞ্জিত আমাদের যে অর্জন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যে মূলনীতি ছিল তা থেকে কিছুটা হলেও দূরে চলে এসেছি।
অতিরিক্ত ডিআইজি এসময় বলেন জাতির জনক ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজদের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্থানী শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা জনগনের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দূর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। তোমাদের উপর বাংলার মানুষ চায় তারা শান্তিতে ঘুমাক, তোমাদের কাছ থেকে আশা করে যে চোর, বদমাশ, গুন্ডা, দূর্নীতিবাজ যেন অত্যাচার না করে। তোমাদের কর্তব্য অনেক বেশি। আমি তোমাদের উপর নিশ্চই এই আশা করবো যে আমি যেন তোমাদের জন্য গর্ব অনুভব করতে পারি।
রেঞ্জ এর অতিরিক্ত ডিআইজি আরো বলেন এই গর্বের কাজগুলো পুলিশ কি কি করেছে? ১৯৭১ সালে পুলিশ সর্বপ্রথম বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেছিল রাজারবাগে। পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে সতেরশ পুলিশ সদস্য শহীদ হয়ে বঙ্গবন্ধুর যে আহবান সেটিকে সফল করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আমরা দেখেছি স্বাধীন দেশের পুলিশ হয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডে পুলিশ কর্তব্যরত অবস্থায় অকাতরে আত্মহুতি দিয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেন “আমি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে পাওয়া নয়”। আমার ভাইয়ের রক্ত আর আমার মায়ের সম্ভ্রমের দামে পাওয়া বাংলা। এই বাংলায় বার বার শকুনিরা, হায়েনারা সম্প্রীতির পরিবেশ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ-জনতা মিলেমিশে তাদেরকে প্রতিরোধ করেছি, আগামী দিনেও মিলেমিশে তাদেরকে প্রতিরোধ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ রচনা করবো। তিনি বলেন আজকের কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল বক্তব্য এটাই
কমিউনিটি পুলিশিং দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নিরূপম নাগ এবং ১৯ নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক শাহিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাল্গুনী নন্দী।

