সুমন ভৌমিকঃ চলতি মাসে ১৩ তারিখে দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন পত্রিকায় “ময়মনসিংহে অবৈধ মদ ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিদিন প্রায় ৩শত লিটার বাংলা মদ চলে যাচ্ছে!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ ময়মনসিংহ নগরীতে রমেশ সেন রোডে নিষিদ্ধ পল্লীতে ১৫ অক্টোবর পৃথক পৃথক ছোটখাট ২টি অভিযান চালায়। এতে শতাধিক লিটার দেশীয় বাংলা মদ আটকসহ ৩ জন গ্রেফতার হয়। এই নিষিদ্ধ পল্লীতে কমপক্ষে ২৫/৩০ জন হকার দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করে বিক্রী করলেও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কোন ব্যবস্তাই নেয়নি। মাঝে মাঝে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মদ উদ্ধার করে।
ময়মনসিংহ নগরীতে রমেশ সেন রোডে নিষিদ্ধ পল্লীতে সরকার অনুমোদিত একটি দেশীয় বাংলা মদের দোকান আছে। সূত্র জানায়, ম্যানেজার পিংকু নিজে, কাইয়ুম ও তার লোকজন প্রতিদিন প্রায় ৩শত লিটার দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে হকারদের কাছে বিক্রি করে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের চাপে অবৈধ বাংলা মদ হকারদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখিলেও পরে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন রমেশ সেন রোডে নিষিদ্ধ পল্লীতে সরকার অনুমোদিত নাসিরাবাদ কাউন্টার থেকে দোকানের মালিকের যোগসাজশে পারমিটধারীদের নামে রির্টান খাতায় বিক্রি দেখিয়ে কালো বাজারে দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে হকারদের (খুচরা ব্যবসায়ী) কাছে প্রচুর পরিমানে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা। বেশীর ভাগ পারমিটধারীরা মাসে মাসে মদ না উঠালেও তাদের নামে মদ বিক্রি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, পারমিটধারী ব্যক্তিরা মাসে ৯ লিটার মদ পাওয়ার অনুমতি আছে কিন্তু দোকান মালিকের যোগসাজশে কর্মচারীরা পারমিটধারী ব্যক্তিদের কাছে পানি মিশিয়ে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ লিটার বাংলা মদ অবৈধ ভাবে পাচার করে থাকেন। এই অবৈধ দেশী বাংলা মদ হকারদের (খুচরা ব্যবসায়ী) কাছে চলে যাওয়ার পর তারা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে হচ্ছেন লাখপতি। আর যখন পুলিশ হাকারদের ধরে ফেলে তখন মামলা হয় হকারদের বিরুদ্ধে। কিন্তু নাসিরাবাদ কাউন্টার থেকে দেশী বাংলা মদ পাচারকারী দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাহিরে। সূত্র জানায়, টাকা দিয়ে সবই ম্যানেজ করা হয়!
প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে একমাত্র সরকার অনুমোদিত দেশীয় বাংলা মদের দোকান রয়েছে রমেশ সেন রোডে নিষিদ্ধ পল্লীতে। এখানে প্রায় ৩ শত যৌনকর্মী। তাদের আছে ৩টি সংগঠন। অপর দিকে এখানে রয়েছে অবৈধ ভাবে দেশীয় বাংলা মদ বিক্রী’র জন্য অনেক হকার (খুচরা ব্যবসায়ী)। এইসব হকারা নিষিদ্ধ পল্লীর ভিতরে ও বাহিরের বিভিন্ন লোকজনদের কাছে অবৈধ ভাবে উচ্চ মূল্যে বাংলা মদ বিক্রি করে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, হকাররা (খুচরা ব্যবসায়ী) প্রত্যেকেই প্রতিদিন ১০/ ১২ লিটার দেশীয় বাংলা মদ কাউন্টার থেকে অবৈধ ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করছে। ইতিপূর্বে সরকারী বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি’র হোতা অনেকেই মদসহ আটক করে মামলা দিয়েছে। কিন্তু দেশীয় বাংলা মদ কাউন্টার থেকে অবৈধ ভাবে পাচারকারীরা রহস্যজনক ভাবে বার বার রক্ষা পাচ্ছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না।
গত ১৩ অক্টোবর দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ গত ১৫ অক্টোবর নগরীর রমেশ সেন রোডে নিষিদ্ধ পল্লীতে পৃথক পৃথক ছোটখাট ২টি অভিযান চালায়। অভিযানগুলো হলো, ১৫ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ময়মনসিংহ নগরীর কোতয়ালী মডেল থানাধীন ৮নং ওয়ার্ডের রমেশ সেন রোডস্থ পতিতাপল্লীর হিরু মিয়ার ৩নং বাড়ীর নিচ তলার ভাড়াটিয়া রুমা (৪০) ও রিনা’র (৪৭) ঘরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১০০ লিটার দেশী বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩০০০০ টাকা। এছাড়া একইদিনে রাত ১০টায় পতিতাপল্লীর ঠাকুরবাড়ী লিটন মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোছাঃ স্বপ্না আক্তার (৪২) এর ঘরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ৩০ লিটার দেশী বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯০০০ টাকা। পৃথক দু’টি অভিযানে দেশী বাংলা মদ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৩৬(১) এর ২৪(খ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ধারায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দু’টি মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, দেশী বাংলা মদে সরকার বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব পায়, তাই অবৈধ ভাবে পাচার হওয়া দেশী বাংলা মদ উদ্ধারে মামলা হয় না। পুলিশ দেশীয় বাংলা মদকে দেশীয় চুলাই মদ নাম দিয়ে মামলা করছে। এর ফলে অবৈধ ভাবে প্রকৃত বাংলা মদ পাচারকরী ডিলার ও তার কর্মচারীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকছে। আর মামলা খাচ্ছে হকার বা খুচরা বাংলা মদ ব্যবসায়ী। কাউন্টারে ডিলার বসে মদ বিক্রির কথা থাকলেও রমেশ সেন রোডের কাউন্টারে ডিলার বসে না। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন পুলিশ কি অবৈধ ভাবে দেশী বাংলা মদের আসল পাচারকারীদের ধরবে, না পার পেয়ে যাবে!

