সুমন ভৌমিকঃ নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানাধীন ১নং বাউসী ইউনিয়নের হারুলীয়া বটটলী গ্রামের শুভ্র’র বাড়িতে ও ২নং সাহতা ইউনিয়নের দত্ত গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যানের মুরগীর ফার্মে রতন কর, আলমগীর ও কমল এর নেতৃত্বে, মদন থানাধীন ১নং কাইটাইল ইউনিয়নের কাইটাইল বাজারে জিয়া, সাইফুল ও ফরিদ এর নেতৃত্বে এবং মোহনগঞ্জ থানাধীন বড়তলী বানিহারী ইউনিয়নের ঝিমটি বাজারে মোহাম্মদ আলী মেম্বার ও কবির এর নেতৃত্বে পালাক্রমে চলছে নিষিদ্ধ ওয়ানটেন জুয়ার আসর। এ যেন দেখার কেউ নেই।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, পুলিশকে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা দিয়ে রাত ১১টা হইতে ভোর রাত পর্যন্ত চলছে এই জুয়ার আসর। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও এর প্রতিকার পাচ্ছে না। আয়োজকরা থানা পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়দের দমনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকা গুলোতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে জানা যায়, এই নিষিদ্ধ জুয়ার আসর গুলোতে উঠতি বয়সী যুবক থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী যুবক, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছে। ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, জুয়া খেলার পাশাপাশি চলে রাতভর মাদক সেবন। পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পরেও এবং এলাকাবাসী জুয়া বন্ধে প্রতিবাদ করেও মিলছে না কোনো প্রতিকার ।
প্রতিদিন প্রাইভেট কার ও মাইক্রো যোগে ১০০ থেকে প্রায় ১৫০ জন লোকের যোগদান হয় এই জুয়ার আড্ডা গুলোতে। আয়োজকরা লক্ষ লক্ষ টাকা জুয়ারীদের লগ্নি দিয়ে থাকে এই জুয়ার আসরে। আর সাথে তো থাকছেই জুয়ারীদের মাদক আড্ডা। গাজীপুর, নেত্রকোনা, নরসিন্দী, জামালপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহের জুয়ারীরা আসে এই সব জুয়ার আড্ডায়। নিয়মিত নির্ভয়েই বসে জুয়ার আসর ।
এলাকাবাসীরা জানায়, জুয়ার খপ্পরে পড়ে একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে এর প্রভাবে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা ও নানা অপরাধ। জুয়ার আসরে অনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সব এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজের অনাগত ভবিষ্যৎ। কলেজ শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছেন জুয়া ও মাদকের দুনিয়ায়। জুয়ার প্রভাব পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে পড়ছে। পাশাপাশি সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশকে ম্যানেজ করার কারনে জুয়া বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ।
এই নিউজ লেখা পর্যন্ত জুয়া বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বারহাট্টা, মদন ও মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় জেলা পুলিশের দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী বলে জানান এই সব এলাকাবাসী।

