সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জেলার গোয়েন্দা সংস্থার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইলামের পারদর্শিতায় চাঞ্চল্যকর আকাশ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ৭২ ঘন্টার মধ্যে ছিনতাইকৃত অটোসহ ২ খুনী গ্রেফতার।
শনিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এম. মোহাইমেনুর রশিদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, চাঞ্চল্যকর অটোচালক আকাশ হত্যাকান্ডের ৭২ ঘন্টার মধ্যে মোঃ মিলন (২০) ও মোঃ রবিন মিয়া (১৯) নামে ২ জন হত্যাকারীকে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটো উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।
জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কোতোয়ালী সদর এলাকার চর সিরতাস্থ সরকারবাড়ী টেকের মাথা কালভার্ট এর কাছে ধানী জমিতে একজন অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা লাশ পড়ে রয়েছে।
গলাকাটা লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও মৃতের আত্মীয়-স্বজন লাশ সনাক্ত করে জানায়, সে আকাশ মিয়া (২০) এবং কোতোয়ালী থানাধীন চর হাসাদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় একজন অটো চালক। এই হত্যার ঘটনায় চর সিরতাসহ সদর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এদিকে অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীরা ধাঁরালো অস্ত্রদ্বারা ভিকটিমকে জবাই করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে তার অটো নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধাঁরালো অস্ত্র ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে জব্দ করে।
আকাশ হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়, যার নং-৬৪, তারিখ-২৭/১১/২০২৪ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
হত্যা মামলা হওয়ার পর ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন হত্যা মামলাটির রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে এবং পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় চৌকস গোয়েন্দা সংস্থার ওসি সহিদুল ইসলাম এর পারদর্শিতায় হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন হয়।
ওসি সহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে তার টিম হত্যা মামলার ৭২ ঘন্টার মধ্যে ২৯ নভেম্বর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও গার্লস স্কুলের পিছনের বস্তি থেকে অটোচালক হত্যার সাথে জড়িত মোঃ রবিন মিয়া (১৯) কে গ্রেফতার করেন।
হত্যাকারী রবিন মিয়ার দেয়া তথ্য মতে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধান হত্যাকারী মোঃ মিলন (২০)-কে খিলগাঁও এলাকার অপর একটি বস্তি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের ভালুকা থানাধীন জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার জনৈক সাগর মিয়ার গ্যারেজের সামনে থেকে চোরাই অটো উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভিকটিম আকাশ ও তারা একই গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকারী মিলন ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে এবং অন্য হত্যাকারী রবিন চালের আড়তে কাজ করে। ফেইসবুকে একটি মেয়ের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভিকটিম আকাশ ও হত্যাকারী মিলনের শত্রুতা হলে প্রায় ২ মাস আগে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এই শত্রুতার জের ধরে হত্যাকারী মিলন ও রবিন ঢাকা থেকে অটোচালক আকাশকে হত্যা ও তার অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে নিজেদের বাড়িতে আসে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে হত্যাকারী মিলন ভিকটিম অটোচালক আকাশকে ফোন করে তার অটো নিয়ে আসতে। পরবর্তীতে অটোচালক আকাশ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে অটো নিয়ে হত্যাকারী মিলনের কাছে আসে। হত্যাকারী মিলন ও রবিন আকাশের অটোতে উঠে সদর এলাকার পরানগঞ্জ ও বোররচরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরাফেরা করতে থাকে।
ঘুরাফেরা করার এক পর্যায়ে আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে অটোর পিছনের সিট থেকে প্রধান হত্যাকারী মিলন অটোচালক আকাশের গলায় ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে পোঁচ দিলে তার দেহ অটো থেকে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে হত্যাকারী রবিনের সহযোগিতায় রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে মৃত দেহ ফেলে রেখে অটো নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার চাঞ্চল্যকর অটোচালক আকাশ হত্যাকারী মোঃ মিলন (২০) ও মোঃ রবিন মিয়া (১৯) কে কোতোয়ালী মডেল থানার হত্যার মামলায় থানায় হন্তান্তর করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুর মোহাম্মদ জানায়, হত্যাকারীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে তারা হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দুর্দান্ত চৌকস ও সাহসী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে, তাদের মধ্যে সহিদুল ইসলাম অনন্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং বিভিন্ন সফলতায় ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন। অল্পদিনের মধ্যে ময়মনসিংহে তিনি যোগ্য অফিসার হিসাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলামকে অভিযানের সাফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. আজিজুল ইসলাম স্যারের দিক-নির্দেশনায় সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলেই সফলতা পাচ্ছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। আমার দক্ষ ডিবি টিম দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে এবং সফলতা আসায় টিমের কাজের মাঝে উৎসাহ উদ্দিপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

