রোকসানা আক্তারঃ প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলীয়ে ৬ লাখ টাকা নিয়ে ময়মনসিংহে ২৭২, চরপাড়া বাইলেন এলাকার জনি (৩৫) ও তার সহযোগীরা মিলে অমানুষিক ভাবে মানুষিক যন্ত্রনা দিয়ে মৃত্যুর জন্য প্ররোচিত করা ও বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত করার পর গত ৭ মার্চ সকাল ১১ টায় চরপাড়াস্থ বউবাজারে রাসেলের বাসায় ভাড়াটিয়া পপির (২৬) টানানোর লাশ পাওয়া গেছে। পপি বহুবার তাকে নির্যাতনের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পুলিশের স্বরনাপন্ন হয়। পুলিশের এস আই তাজুল তার কাছ থেকে জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিয়ে নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তী সময়ে পপি তাকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় যতবার গিয়েছেন ততবারই এস আই তাজুল তাকে চালান দিবে বলে হুমকী দিয়ে বিদায় করেছে। পপির ভাইয়েরা ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ও জনির অত্যাচারে পপির মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী আর জানিয়েছে, ঘটনার দিন জনির বাসায় পপিকে হত্যা করা হয়। পরে জনি ও তার তিন বন্ধু মিলে পপির দেহ টেনে হেছরে পপির থাকা ভাড়া বাসায় লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। জনি চরপাড়া এলাকার পদ্যা ডায়গনোষ্টিক সেন্টারের মালিক। পপির একাধিক অভিযোগ এসআই তাজুল ও জনি আপোষনামা বানিয়ে পপির সাথে ব্ল্যাকমিল করার কথাও শোনা যাচ্ছে। চর পাড়ার অনেকে জানিয়েছে এস আই তাজুল ও জনি বিভিন্ন সময় চরপাড়া এলাকায় বন্ধুর মত চলাফেরা করতো।
এলাকাবাসী আরও জানিয়েছে, ঘটনার দিন জনি একাধিকবার ফোন করে পপিকে তার বাসায় নিয়ে যায়। পরে জনির নেয়া ৬ লাখ টাকা পপি দাবী করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় জনি ও তার স্ত্রীসহ আরো ৪/৫ জন মিলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করে। নির্যাতনে পপির হাত ভেংগে গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এছাড়াও নিহতের শরীলে আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। এস আই তাজুল খুনে অভিযোক্ত জনি বন্ধু হওয়ায় সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ করেনি বলে বাদীর অভিযোগ।
মামলার বাদি নিহতের ভাই আলামিন জানান, পুলিশ তাকে বারবার ফোনে তারাহুরা করে ও লোক পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে তাদের কম্পিউটারে টাইপ করে স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করেন। পরে তিনি আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে জনি, জনির স্ত্রী শোভা, জুয়েল ও আরজুকে আসামী করা হয়। এ রিপোর্ট লিখা সময় পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

