বদরুল আমীনঃ ময়মনসিংহ জেলায় ১৩টি উপজেলার সরকারি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সুপারিশ নিয়ে কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের তদবির এবং মোটা অংকের টাকা দিয়ে সুবিধামত জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে অলস ভাবে শিক্ষকতা করছেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১ শ ৮৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে শিক্ষকগন হাজির থাকেন না বলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকগন জানিয়েছেন। অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ে হাজির হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকাগন বিদ্যালয়ে আসেন সকাল ১০টায়। দেরিতে ক্লাস শুরু হওয়ার কারনে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান খুব নগন্য।
সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরে বা শহর থেকে অনেক শিক্ষক সদর উপজেলার মফস্বল ও পরিবহন যোগাযোগ বিছিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে চাকুরি করেন। এ সকল নারী কিংবা পুরুষ শিক্ষকগন কোন দিনই সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। ফলে এ সকল বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর নয়। ফলে অনেক শিশুরা উৎসাহ হারিয়ে আর বিদ্যালয়ে যায় না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকংশ বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক বেশী। যে সকল বিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষক কম সেখানে নারী শিক্ষকদের বিলম্বে উপস্থিতি আর খুশগল্পই বেশী চলে। ঐ সকল এলাকায় শত শত শিশু-কিশোর লেখাপড়া না করে শিশু শ্রম বা পথ শিশু হয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। শিক্ষার মান খারাপ হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকগন স্থানীয় ভাবে অভিভাবকদের উৎসাহিত না করায় সদর উপজেলায় হাজার হাজার শিশু-কিশোর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেখা যায়, বিদ্যালয় পরিদর্শকগন নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন না করায় এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুত্র জানিয়েছে, খাগডহর সরকারি প্রামিক বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে। এখানে শিক্ষক মাত্র ১ জন। তাদের বিরুদ্ধে অভিভাবকগন জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন। জেলাশিঅ/ময়মন/১২০৩ তাং০৮/০৪/২০১৮ ইং দু’জন নারী তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযুক্ত নারী আর তদন্ত কর্মকর্তা নারী। ফলে অদ্যবদি তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ রয়েছে উক্ত বিদ্যালয়ের ৯ নারী শিক্ষিকা সব চেয়ে বেশী খাটান পুরুষ শিক্ষককে। কারনে অকারনে নারী শিক্ষকরা দলবদ্ধ হয়ে যান। তাদের দাখিলকৃত একটি মিথ্যা অভিযোগে সেই পুরুষ শিক্ষকের স্বাক্ষর নিতে পারেননি। অভিযোগটি হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্বারক নং ৩৩৭১ তাং১৭/০৫/১৮ ইং। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাসিনা নাকি খুব প্রভাবশালী। শিক্ষিকা হাসিনার তার ভাসুর সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম হালুয়াঘাটে কর্মরত সহকারী শিক্ষক কে বদলী করিয়ে ময়মনসিংহে আনতে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছেন। ঐ শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা স্বীকার করেন। সম্প্রতি হাসিনা বিভিন্ন শিক্ষকদের বদলীতে তদবির করেন বলে জানা যায়। অনেকে বলেছেন হাসিনার কথা নাকি জেলা শিক্ষা অফিসার মূল্যায়ন করেন। খাগডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ে নাকি তিনি প্রভাবশালী শিক্ষিকা! কেওয়াট খালি বদলী হয়ে যাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমন নাজুক আকার ধারন করেছে ময়মনসিংহ সদরের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে।

