একাত্তর বাংলাঃ খাবারের অভাব আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে আগের মত এখন আর দেখা মিলছেনা পরিযায়ী পাখির ঢল। এতে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে পর্যটক। বিলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক মাসের বন্যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাইক্কা বিলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
মৌলভীবাজার হাইলহাওর বাইক্কা বিল। শীত আসলেই এখানে দেখা মিলতো বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এবার অতিথি পাখির সংখ্যাটা নেমে এসেছে অর্ধেকে। দীর্ঘদিন বন্যা থাকার কারণে অতিথি পাখিদের খাবার সংকট আর শীত মৌসুমে হাওড়ের পানি শুকিয়ে যাওয়াকে দুষছেন বিল সংরক্ষণ কর্মকর্তা।
শ্রীমঙ্গলের বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্নাত আলী বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কারণে শাপলা, শালুক, সিংড়া এই ধরণের পাখি নেই বললেই চলে। এই বছরে পাখি অর্ধেকে নেমে এসেছে।’
এদিকে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। আর এ বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে যারা আসছেন তারাও ফিরছেন অনেকটা হতাশা নিয়েই।
পর্যটকরা বলেন, ‘এখানে এসে দেখি শুধু পানি কোনো পাখি নেই। বাইক্কা বিলের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এসে পাখি দেখতে না পেরে অনেকটা হতাশ।’
তবে বাইক্কা বিলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানালেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শ্রীমঙ্গলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ক্রেল প্রকল্প পলাশ সরকার বলেন, ‘পদ্ম, কচুরিপানা, ঢোলকুমড়ি, বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাখির খাদ্য সংকট কাটানো সম্ভব।’
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে স্থানীয় লোকজন সম্পৃক্ত আছে এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ এনজিও, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ও সম্পৃক্ত আছে। এবং তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মধ্যমে বাইক্কা বিলের পাখি বিশেষ করে পরিযায়ী পাখি রক্ষণের বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে।’
জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরিযায়ী পাখি গেলো বছর বাইক্কা বিলে আসে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭১৩টি অতিথি পাখি। যা এ বছর কমে দাঁড়ায় সাড়ে ৫ হাজারে।

