একাত্তর বাংলাঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ৯ শিক্ষক ও ৩১ পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করেছে প্রশাসন। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।
এতো নজরদারির পর আজও, এসএসসি পরীক্ষায় রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছে বিভিন্ন চক্র। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে চক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের ধরতে না পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
কোনো কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস। প্রশাসনের নেয়া সব পদক্ষেপই যেন ব্যর্থ প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কাছে। পরীক্ষার আগের দিন রাতেই বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সক্রিয় হয় প্রশ্ন ফাঁসকারীরা। টাকা লেনদেন থেকে শুরু করে সবকিছুই নিশ্চিত করা হয় সিক্রেট গ্রুপেই।
বরাবরের মতো আজও রসায়ন পরীক্ষার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে পরীক্ষার আগেই। আর প্রশ্ন ফাসেঁর এ চক্রে শিক্ষার্থীরাও মানসিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলে, এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই। তারা ফাঁদে পা দিচ্ছে। এখানে তাদের কোনো দোষ নেই। প্রকৃত জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাসেঁর অভিযোগে নাটোরে অভিযুক্ত ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কুষ্টিয়ায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে একই শাস্তি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ৯ জন শিক্ষককে আজীবন বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশ্নফাঁসকারীদের আটক না ধরে, গত কয়েকদিনে পরীক্ষার্থীদের ধরপাকড়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বিজি প্রেস, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বোর্ড অফিসের লোকজন জড়িত।
আর এ বিষয়ে শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে বাণিজ্য করে যারা পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ব্যবসা করছে তাদেরকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকার বড় বড় অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারছে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের কেন আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না? এখানে সরকারের কোনো উদাসীনতা আছে কিনা সে প্রশ্ন আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রশাসন তেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলে তার সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র নিয়মিতই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চলেছে যার ভুক্তভুগি হতে হচ্ছে কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের।
আর তাই শিক্ষাবিদরা বলছেন, কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া বিধি-নিষেধ কিংবার শাস্তি দিয়ে রোধ করা সম্ভব নয় প্রশ্ন ফাসেঁর এই ব্যাধিকে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে মূল হোতাদের বিরুদ্ধেও।

