একাত্তর বাংলাঃ কি আছে লাল গোলাপে ?চারিদিকে শুধুই প্রেম-প্রেম গন্ধ। আর তার কারণ, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সারাদিন প্রেমের দিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে সেলিব্রেশন। দোকানে দোকানে বেশ ভিড় চোখে পড়ছে। সঙ্গীকে কী উপহার দেবেন, যাতে সঙ্গীর মন একবারেই খুশ হয়ে যায়, তা নিয়ে চলছে ইন্টারনেটে জবরদস্ত সার্চ।
ইন্টারনেট ঘেটে, বন্ধুদের থেকে পরামর্শ নিয়ে প্রেমিকার জন্য যা কিছু তো একটা কিনে ফেললেন। কিন্তু আদৌ সেটা তাঁর পছন্দ হবে কিনা, সেটা ভেবে দেখেছেন? তার থেকে বরং এটা জেনে নিন, এই বিশেষ দিনে কী উপহার দিলে, প্রেমিকাকে ইমপ্রেস করতে আপনি সফল হবেনই হবেন।
১) ঘুরতে যেতে কে না ভালোবাসে। তাই এই বিশেষ দিনটায় প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে লং ড্রাইভে বেড়িয়ে পড়ুন। কাছাকাছি, পাশাপাশি থাকলে সম্পর্ক আরও মধুর হবে। যদি কোনও মনোমালিন্য থেকেও থাকে, তাহলে দেখবেন তা নিমেষে ভ্যানিশ।
২) প্রেমিকাকে জীবনসঙ্গী করার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র থেকে উপযুক্ত দিন আর নেই। একটা সুন্দর আংটি নিন, আর মনের কথাটা জানিয়েই দিন। প্রেমিকা না করতে পারবেন না।
৩) মনের কথা জানানোর জন্য চিঠির থেকে ভালো মাধ্যম আর একটাও নেই। যাকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে চাইছেন, এখনও যদি তাঁকে মনের কথা না জানিয়ে থাকেন, তাহলে এই সুযোগ। আপনার সমস্ত মনের কথা আবেগ দিয়ে লিখে ফেলুন। আর প্রেমিকাকে উপহার দিন। ম্যাজিক দেখুন সঙ্গে সঙ্গে।
যদি প্রশ্ন আসে মানুষ কেন ভালবাসে তবে তার কারন বের করলে দেখা যায়……
প্রেম-ভালবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয় মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় । জন্মের পরে একটি শিশুর প্রথম ভালবাসা তার মা পর্যায়ক্রমে তার বাবা এভাবে সে যখন বুঝতে শিখে তখন সে দেখে আসলে প্রেম-ভালবাসা জিনিসটা স্বর্গ থেকে আসে। যার শুরু সৃষ্টিকর্তা কে ভালবাসার মাধ্যমে এভাবে সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টি তে ভালবাসা প্রকাশ করতে শিখে । সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের সব চেয়ে বেশি ভালবাসেন এজন্য তিনি তার বান্দাদের জন্য এত কিছু দিয়েছেন।
সেগুলোর হেফাজত করা, ভালবাসা আমাদের দায়িত্ব । মানুষে প্রেম ভালবাসাটাও এমন । মানুষ তার জীবনের সম্পর্ক অনুযায়ী সবাইকে ভালবাসে। বিশেষ কাউকে ভালবাসে তার জীবনের প্রয়োজনে। এটাই নিয়ম এবং মানুষ বিশেষ কিছু নিয়মের পরিপন্থী খুব কমই হয় । মানুষ কে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে নারী পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ থাকবে যা তাদের ভালবাসা কে সমৃদ্ধ করবে। ভালবাসা না থাকলে মানব সভ্যতা এগুতে পারত না। আজকের সমাজ টিকে আছে এই ভালবাসা তথা পারস্পরিক বন্ধন,নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা আছে বলেই।
কাজেই মানুষ যেমন খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য খাবার খায়, তেমনি মানসিক ও শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিশেষ কারো প্রেমে পড়ে অথবা ভালবাসে । আর সৃষ্টিকর্তা- বাবা-মার প্রতি ভালবাসা যেমন অনিবার্য ভাবে আসে তেমনি বিশেষ কারো প্রতি ভালবাসাটাও জীবনের তাগিদে চলে আসে । এক কথায় বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ প্রেম ভালবাসায় আসক্ত হয় । একান্তই আমার উপলব্ধি।
বিজ্ঞানের ভাষায়, প্রেম বা ভালবাসা হলো আমাদের মস্তিষ্কের থ্যালামাসের একধরনের রাসায়নিক অবস্থা। যার জন্য একাধারে দায়ী আমাদের জিন। প্রেমের প্রথমদিকে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গাল – কান লাল হয়ে যাওয়া, হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়; বিজ্ঞানীদের মতে সেসবের পেছনে দায়ী হলো ডোপামিন, নরেপিনেফ্রিন হরমোন।
মাঝে মাঝে দেখা যায় কারো কারো প্রেমের আবেগ কমে যায়। তার কারণ মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না। আবার এও দেখা গেছে যে কোনো মানুষের শরীরে কৃত্রিমভাবে এই হরমোন রসায়ন প্রয়োগ করা হলে তাদের মাঝে সেই প্রেমের অনুভূতি হয়।

