একাত্তর বাংলাঃ দুর্নীতির অভিযোগে দলীয় চেয়ারপার্সনের সাজার পর আন্দোলনের নতুন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। কঠোর কর্মসূচী থেকে নিজেদের দূরে রেখে দলীয় প্রধানের নির্দেশে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পুরো দস্তুর কৌশলী রাজনীতি চর্চা করছে দলটি। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা আসলে কঠোর আন্দোলনের হুঁসিয়ারী বিএনপির। দলটির গণতান্ত্রিক কর্মসূচীকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে প্রশাসন তার দায়িত্ব থেকে পিছপা হবেনা।
নির্বাচনকালীণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিগত কয়েকটি বছর কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী দিয়েছিলো দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। দাবি আদায় না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আবারো সে ধরণের কর্মসূচী, দলটির পক্ষ থেকে আসতে পারে এমনটাই ধারণা ছিলো সবার মাঝেই। এরই মধ্যে বিএনপি প্রধানের সাজার পর সে বিষয়টি আরো গাঢ় হয়ে সাধারণের মাঝে শঙ্কা জাগায় কঠোর কর্মসূচী আসবে দলটির কাছে থেকে।
কিন্তু সরকার ও প্রশাসন এমনকি সাধারণ মানুষসহ সবাইকে চমকে দিয়ে একের পর এক শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচী দেয় দলটি। বিএনপির এই কৌশল পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করেছি। অনেক সময় আমাদের কঠোর আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যখনই আমরা কঠোর আন্দোলনে গেছি, তখনই এই সুযোগে সরকার নিজেরা কিছু অনাসৃষ্টি করে ওটার দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা তাদের সে সুযোগ দিতে চায়না।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজি জাফরউল্লাহ বলেন, ‘এবার তাদের (বিএনপি) যে কৌশল সেটা সঠিক কৌশল। আবার অনেকেই আমাদের বলছেন, এখন ওরা জনগণকে দেখাচ্ছে। অর্থাৎ আই ওয়াশ। তাদের যে আন্দোলন করতে হবে, সে ধরনের শক্তি মাঠ পর্যায়ে নেই।’
তবে জননিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে এমন কর্মসূচী আসলে প্রশাসনিকভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা। দাবি আদায় না হলে কিংবা কঠোর আন্দোলনের পথে ঠেলে দিলে সরকারই এজন্য দায়ী থাকবে বলে জানান বিএনপি।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজি জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপিকে কোনো উসকানি দেয়া হয় নি। তারা কঠোর আন্দোলনে গেলে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জানমাল, সম্পদ রক্ষা করা।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ উপায়েই জানাবো। এটা একটা কৌশল। কিন্তু একান্তই যদি সেটা অসম্ভব হয়ে যায়, তখন আন্দোলনের ধরনেরও পরিবর্তন ঘটবে।’
এমন অবস্থায় হঠাৎ করেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব দলগুলোকে সহনশীল আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

