পুলক রায়,শেরপুরঃ ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় সরকারি সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ২ নং ধানশাইল ইউনিয়নের ১ নং চকপাড়া ওয়ার্ডের অসহায় সম্বলহীন বৃদ্ধা আলেফা বেগম(৬৫)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় ১১ বছর আগে ভিটে মাটি ও সন্তানাদিহীন দিনমজুর স্বামী ছাবেদ আলী স্ত্রী আলেফা বেগমকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। একদিকে স্বামীর মৃত্যু অপরদিকে সন্তানাদি ও কোন সম্পদ না থাকায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে বিধবা আলেফা বেগম। নানা অভাব অনটন আর মানুষিক দুঃশ্চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ে গেলো। ৯ বছর আগে অজানা এক রোগে আক্রান্ত হয় এই বৃদ্ধা। এই অজানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেন না। ফলে বিশেষ প্রয়োজনে তাকে বসে দু’পায়ের উপর ভর করে এদিক সেদিক যেতে হয়। এমতাবস্থায় এই বৃদ্ধার করুণ পরিস্থিতিতে কোন ধনবান বা বিত্তবান ব্যক্তি তার পাশে না দাড়ালেও একই গ্রামের সিএনজি চালক নায়েব আলীর বাড়ীর এককোণে খোলা স্থানে জানালা দরজা বিহীন ঝুপড়িতে আলেফা’কে থাকতে দেয়া হয়। আর ওই বৃদ্ধা আলেফা’কে গত ৪ বছর ধরে দিনমজুর আলম হোসেন দুবেলা দুমুঠো খাবার দিয়ে আসছেন। এই খোলা স্থানে রাত্রীযাপন করায় প্রায়ই প্রতি রাতেই তাকে শেয়াল কুকুর উপদ্রব করে।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, ওই বৃদ্ধার বয়স ৬৫বছর পার হলেও তিনি এখনও ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হতে পারেননি। ভোটার কি জিনিস এটাও ওই বৃদ্ধা জানেনা। যে কারণে সরকারি সকল প্রকার সুবিধা থেকে তিনি হচ্ছেন বঞ্চিত।
যে কারণে দাড়িয়ে চলাফেরা করতে না পারলেও বসে বসে হেটে কাছাকাছি বাড়ীগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছে।
এ ব্যাপারে ওই বৃদ্ধা জানান, আমার একটা ভোটার কার্ড বানিয়ে দেন। যাতে আমি সরকারের কাছে কিছু সাহায্যে সহযোগিতা পেতে পারি।
ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “আলেফা বেগমের নামে ভোটার আইডি কার্ড নেই বা হয়নি সেটা আমি জানতাম না। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পেলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। সত্যতা যাচাই করে সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

