স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহে এক ভাসমান ফল ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ এর বিরুদ্ধে। আহত ব্যবসায়ী করোনার ভয়ে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে নিজের বাড়িতে ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) প্রথম লকডাউন চলাকালে ভাসমান ফল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৩৫) পেটের তাগিদে ফল বিক্রির জন্য ভ্যান গাড়ীতে ফল সাজিয়ে দূর্গাবাড়ী রোডে অবস্থান করছিলো। এসময় সকাল ১১টা দিকে ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান দূর্গাবাড়ী রোডে টহলরত অবস্থায় নজরুল এর ভ্যান গাড়ীর সামনে আসে। তিনি চলমান লকডাউন দেখিয়ে নজরুলকে ভ্যান গাড়ীর সামনে পেয়ে মাথায়, কপালে ও বুকের পাঁজরে কিল-ঘুষি মেরে অশ্রীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। কিল-ঘুষি’র কারনে নজরুল প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যায়। রাস্তা থেকে উঠার পর ইনচার্জ মাহবুবুর আবারও কিল-ঘুষি মারে এবং ভাসমান আহত নজরুলকে ভ্যান গাড়ী নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলে।
এই পরিস্থিতিতে শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা সৃষ্টি হলে নজরুল ১৪ এপ্রিল ডাঃ এএসএম শফিকুল ইসলামকে দেখান। ডাঃ শফিকুল ইসলাম নজরুলের শরীরে পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে বিভিন্ন স্টেট ও ঔষধ লিখে দেন। অভাবী নজরুল একটি স্টেট পরীক্ষা করান এবং কিছু ঔষধ কিনেন। শাররিক পরীক্ষায় দেখা যায় বুকের পাঁজরের ভিতর বড় আকারে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। এছাড়া কিল-ঘুষি’র কারনে কাপালও ফোলে গেছে।
দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়ানকভাবে ছড়িয়ে পড়ায়, সরকার ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে ৭ দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষনা করে। লকডাউন এর কারনে খেটে খাওয়ার মানুষের কপালে হাত। যারা প্রতিদিন কামাই না করলে ঘরে ভাতের ডেস্কি খালি থাকে, তারা লকডাইন কি বুঝে। কামাই তো করতে হবে। পেটে ভাত পড়তে হবে। বাঁচতে হলে ভ্যান গাড়ী নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। ভ্যান গাড়ী নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল নজরুল, এটাই ছিল তার অপরাধ!
ভাসমান ফল ব্যবসায়ী নজরুল জানায়, আমি পেটের তাগিদে প্রতিদিনের মত ফল বিক্রির জন্য লকডাউনে ভ্যান গাড়ী নিয়ে দূর্গাবাড়ী রোডে আসি। সকাল ১১টার দিকে ইনচার্জ স্যার ভ্যান গাড়ীর সামনে এসে আমার মাথায়, কপালে ও বুকের পাঁজরে কিল-ঘুষি মারে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। ইনচার্জ স্যারের কিল-ঘুষিতে আমি প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে রাস্তায় পড়ে যাই। আমি রাস্তা থেকে উঠার পর ইনচার্জ স্যার আবারও কিল-ঘুষি মেরে গালিগালাজ করে আমাকে বলে ভ্যান গাড়ী নিয়ে ১নং ফাঁড়িতে চল। আমি ব্যাথা সহ্য করে ভ্যান গাড়ী ঠেলে ফাঁড়িতে নিয়ে গেলে ভ্যান গাড়ীটি আটকিয়ে ফেলে। পরে ফাঁড়িতে লোক পাঠিয়ে এক হাজার টাকা দিয়ে ভ্যান গাড়ীটি ছাড়িয়ে আনি।
ভাসমান ফল ব্যবসায়ী নজরুল আরো বলেন, আমি টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না। কেউ যদি সহযোগিতা করে তবে চিকিৎসা করতে পরবো। “আমি আল্লাহ কাছে এই নির্যাতনের বিচার চাই”।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর এর এই ধরনের ঘটনার সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন।

