রোকসানা আক্তার, এস.এম আকাশঃ ধাপে ধাপে নৃশংস নির্যাতন ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার পর নিহতের বাবার বাড়ি’র পরিবারকে ডেকে এনে জিম্মি করে লাশ দাফন কাফন করায় নিহতের মা শাহনাজ ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলী আদালতে মামলা করার পর গতকাল বিজ্ঞ ম্যাজিস্টেট দিলরুবা ইসলামের উপস্থিতিতে ৭মাস পর লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছেন।
লাশ দাফনের সময় নিহতের বাবার বাড়ি’র পরিবারের ৮ সদস্যকে ঘরে তালা বদ্ধ করে রাখে খুনের অভিযুক্তরা। জিম্মি থাকা সময়ে নিহতের বাবার বাড়ি’র আত্নীয়রা ৯৯৯ এ ফোন করে আইনি সহায়তার আশ্বাস পেলেও পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় ফুলবাড়িয়া’র তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদারকে অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়ে মামলাটি আমলে না নেয়ায় আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। তৎসময় করোনা দূর্যোগ থাকায় বিলম্বে মামলা করলেও বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ পিবিআই কে নির্দেশ দিলে তদন্তে ঘটনার সত্যতা বেড়িয়ে আসে। এর প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্টেট দিলরুবা ইসলামের নেতৃত্বে পিবিআই ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাদেকুল সিকদার, এসআই তারিকুল ইসলাম, এসআই পঙ্কজ কুমার আচার্য সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ফুলবাড়িয়া থানাধীন ১৩ নং কাকড়া চালা ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামের শামীম খানের বসতবাড়ী সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে দেয়া কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেন।
প্রকাশ, ভালুকা উপজেলার বহুলী গ্রামের জেসমিনের বিয়ে হয় কান্দানিয়া গ্রামের আঃ মালেকের পুত্র আরিফুল ইসলামের সাথে। তাদের ৭ বছরের বিবাহিত জীবনে ৩ বছরের তামিম নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের ৩ বছর পর জেসমিনের গর্ভে আসে সন্তান। এ সময় আরিফ বিদেশে চলে যায়। শশুর বাড়িতেই অবস্থান করতো জেসমিন। সাংসারিক কাজকর্মের ভুলত্রুটিসহ বিভিন্ন অযুহাতেই জেসমিনের উপর সময়ে অসময়ে নেমে আসতো অমানবিক নির্যাতন। ঘটনার দিন ৩ এপ্রিলও এমনই নির্যাতনে জেসমিন অজ্ঞান হলে, এক পর্যায়ে শশুড় বাড়ীর সজিব, মালেক, রহিমা, ময়না ও দুলাল মিলে জেসমিনের গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন ভোরে আনুমানিক ৫টায় জেসমিনের বাবার বাড়িতে ফোন করে অভিযুক্তরা বলে জেসমিন স্ট্রোক করে মারা গিয়েছে। এমন সংবাদ পৌছানো হয়। খবর পেয়ে জেসমিনের মা শাহানাজসহ রোকেয়া, মাহাবুব, বাসুমিয়া, রৌশনারা ও পাপিয়া জেসমিনের শশুর বাড়িতে (আরিফের) বাড়িতে যায়। তারা জেসমিনের মুখ পোড়া এবং হাতে-পায়ে বহু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এর কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে লাশ দাফন সম্পন্ন করে এবং পুলিশকে না জানানোর জন্য হুমকি প্রদান করে।

