একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) আকুয়া মৌজায় ক্রয়কৃত জমি দখলে নিয়ে ও লিজের আবেদন করে সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ’র নামে গড়ে তোলা হয় বালিকা বিদ্যালয়। লিজ আবেদনের পর বিদ্যালয়টির স্থাপনা উচ্ছেদ করে মসিকের ২ একর ৫৬ শতাংশ ভূমি উদ্ধার করেছে মসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জানা যায়, স্কুল কমিটি ২ একর ৫৬ শতাংশ ভূমি লিজ নেওয়ার জন্য ২০১৭ সালে মসিক বারাবর আবেদন করেছেন।
সোমবার (৯ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন মসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজীব-উল-আহসান।
এসময় সহযোগীতায় ছিলেন- প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান (সিনিয়র সহকারি সচিব), প্রধান সম্পত্তি কমকর্তা মো. আব্দুল হালিম, নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল হক, সহকারী সচিব আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস, স্ট্যাট অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাব্বদ আলীসহ একদল পুলিশ।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ছাইফুল ইসলাম জানান, আকুয়া মৌজায় ২ একর ৫৬ শতাংশ জমি সিটি করপোরেশনের । এ জমিতে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয় ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা বিদ্যালয়। এনিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৪৬১/২০১৭ মোকাদ্দমা দায়ের করে। পরে ধোবাউড়া সহকারী জজ আদালতে বিচারের জন্য মামলাটি প্রেরিত হয়। ওই আদালতে ৯৪/২০১৯ মোকাদ্দমাটি গত ১ নভেম্বর বিচারক খারিজ করে দেন। সেই প্রেক্ষিতে ৯ নভেম্বর অবৈধ দখলকৃত জমি উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মসিক।
এব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অধ্যক্ষ শাহাদাৎ হোসেন রমজান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আভিযানিক দল বিনা নোটিশে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা বিদ্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন রুম থেকে কম্পিউটার সহ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধ থাকা সত্বেও লোকজনদের পুলিশ দিয়ে হটিয়ে ১৫০ ফিট টিনশেড ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনের কাছে উক্ত জমি লিজ প্রাপ্তি’র আবেদন থাকার পরেও বিনা নোটিশে মসিক এর উচ্ছেদ অভিযানকে জনগণ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
অপরদিকে, স্থানীয় আব্দুল হাই জানান, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসিক এর ভূমি নাম মাত্র বাৎসরিক সালামিতে লিজ দিয়ে থাকলেও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত ভূমিতে মসিক এর জমি দাবি করে তা গুড়িয়ে দেয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মসিকের অমানবিক অভিযান নগরে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।

