উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ৬ সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে পাচার হচ্ছে বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে নীলগাই, চিতা, তক্ষক, বনরুই থেকে শুরু করে আছে কচ্ছপ-পাখিও। এসব ভারতের শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও চীনে। বন বিভাগ, ইন্টারপোল, সাইটিসের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে মিলেছে এসব তথ্য।
পঞ্চগড়ের দারখোর গ্রামে গত ২ ফেব্রুয়ারি নাগর নদীর পাড়ে একটি চিতার দেখা পান স্থানীয়রা। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে একে ধরা হয় জাল দিয়ে। পরে এর মৃত্যুও হয় তাদের আঘাতে। অথচ সীমান্তের কোনো পাড়েই নেই এ বাঘের আবাস।
গত বছরের নভেম্বরেও ঠাকুরগাঁওয়ের কান্তিভিটা সীমান্ত থেকে উদ্ধার হয় একটি নীলগাই। গত কয়েক বছরে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁয় পাওয়া গেছে নীলগাই-বনরুইয়ের অঙ্গপ্রতঙ্গ। তবে এসব অঞ্চল থেকে নীলগাই বিলুপ্ত হয়েছে ১৯৪০ সালের পর পর।
এ ছাড়া জলপাইগুড়ির গজলডোবায় ২০২২-এ উদ্ধার হয়েছিল ৭টি ক্যাঙ্গারু। সেগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ হয়ে সেখানে গেছে বলে দাবি করেছিল ভারতের গণমাধ্যম। উত্তরবঙ্গজুড়ে এসব অস্বাভাবিক ঘটনাতেই মাঠে নামে বন বিভাগের অপরাধ দমন ইউনিট।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম কুমার মল্লিক বলেন, উত্তরবঙ্গের কিছু পোর্ট বা বর্ডার ঘেঁষা কিছু অঞ্চল আছে…। ভবিষ্যতে আমরা যদি এর ওপর নজরদারি বাড়াতে পারি, তাহলে হয়ত কোন কোন বর্ডার বা পোর্ট দিয়ে কি কি ধরনের বন্যপ্রাণী আসে তা জানা যাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাণী পাচারে ব্যবহার হচ্ছে আটোয়ারি, বালিয়াডাঙ্গি, হিলি, শিবগঞ্জ, বুড়িমারি ও মেহেরপুর সীমান্ত। জলপাইগুড়ি লাগোয়া চিকেন নেক থেকে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন থাইল্যান্ডসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও যাচ্ছে এসব প্রাণী।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক সানা উল্ল্যাহ বলেন, একটা প্রাণী এভাবে আসলো বা সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এটা জানতে হবে। তাহলে ওই পাশে যারা আছে, তারাও অ্যালার্ট থাকবে।
গবেষকেরা বলছেন, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক পাচার চক্র এ পথ ব্যবহার করছে।
সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের নেটওয়ার্কগুলো এবং পাচারের রুট খুঁজে বের করা দরকার। এ ছাড়া কোন কোন প্রাণী পাচার করা হয় সেটির সঠিক জরিপ হওয়া প্রয়োজন।
বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক চক্র। এর রুট হিসেবে সীমান্ত ব্যবহৃত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটিসের নিষেধাজ্ঞায়ও পড়েছে বাংলাদেশ।

